পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার ওপরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) বড় ধরনের সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে মহাকাশে হেঁটেছেন দুই নভোচারী। পুরো অপারেশনটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাফা।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের অষ্টম তথা সর্বশেষ রোল-আউট সোলার অ্যারে স্থাপনের জন্য গত বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় ১৩:৩৬ মিনিটে নাসা-র নভোচারী অনিল মেনন এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জোশুয়া কুটরিক তাদের প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী স্পেসওয়াক শুরু করেন। এই বিশাল ও জটিল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মহাকাশ স্টেশনের বাহ্যিক অংশে একটি শক্তভাবে গোটানো সৌর প্যানেল পরিবহন করা হয়। অপারেশনের একপর্যায়ে সরঞ্জামগুলো বহনের সময় স্টেশনের রোবোটিক বাহুতে অবস্থান করার কথা রয়েছে অনিল মেননের, এবং পরবর্তীতে তিনি কুটরিকের সাথে যুক্ত হয়ে প্যানেলটি নির্দিষ্ট স্থানে শক্তভাবে আটকে দেবেন।
নভোচারীরা গোটানো অবস্থায় আটকে রাখা বল্টুগুলো খুলে ফেললে সোলার প্যানেলটি নিজ থেকেই মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে পুরো প্রসারিত হতে সক্ষম। তবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া চলাকালে প্রতি ৪৫ মিনিট পর পর আলো ও অন্ধকারের দ্রুত পরিবর্তনের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। কারণ অর্বিটাল নাইট বা কক্ষপথের রাতের সময়টিতে, যখন বিদ্যমান অ্যারেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন তৈরি বন্ধ রাখে, তখনই কিছু বিশেষ বৈদ্যুতিক সংযোগ সম্পন্ন করতে হয়। এর আগে গত সপ্তাহে সপ্তম সৌর অ্যারে স্থাপনের জন্য পরিচালিত স্পেসওয়াকটি দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা ১১ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল।
নাসা জানায়, এই নতুন বিদ্যুৎ আপগ্রেডের ফলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উপলব্ধ বৈদ্যুতিক ক্ষমতা ১৬০ কিলোওয়াট থেকে বেড়ে প্রায় ২১৫ কিলোওয়াটে পৌঁছাবে, যা প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ২০২১ সালে শুরু হওয়া মহাকাশ স্টেশনের আধুনিকীকরণ কর্মসূচির শেষ ধাপ হলো গত বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হওয়া এই মিশনটি। ২০৩০ সালের দিকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনকে তার পরিকল্পিত অবসরে পাঠানো এবং পরবর্তীতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নিয়ন্ত্রিতভাবে নামিয়ে আনার আগ পর্যন্ত বাড়তি এই বিদ্যুৎ শক্তি স্টেশনের প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও জরুরি কার্যক্রম পরিচালনায় নিরবচ্ছিন্ন সুবিধা জোগাবে।
সূত্র: আরটি






