গর্ভাবস্থা ও প্রারম্ভিক বয়সে চিনি এড়িয়ে চললে শিশুর যে লাভ হয়

গর্ভাবস্থা ও শিশুর প্রারম্ভিক বয়সে খাদ্যতালিকা থেকে অতিরিক্ত চিনি বাদ দিলে তা জীবনের পরবর্তী সময়ে মস্তিষ্ককে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখে। সেই সঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে ধীর গতিতে মস্তিষ্কের বার্ধক্যপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। সম্প্রতি নেচার পার্টনার জার্নালের প্রকাশি একটি যুগান্তকারী গবেষণার বরাতে বিশিষ্ট স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. সুধীর কুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ করেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভধারণের পর থেকে শিশুর বয়স দুই বছর পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম এক হাজার দিনে চিনি গ্রহণের পরিমাণ সীমাবদ্ধ রাখলে বা বর্জন করলে প্রায় চার দশক বা তারও পর পর্যন্ত মস্তিষ্কের জটিল রোগ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক চিনি রেশনিং ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জীবনের প্রারম্ভে চিনিমুক্ত বা কম চিনির পরিবেশে বেড়ে ওঠা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরবর্তী জীবনে আলঝেইমারস রোগের ঝুঁকি প্রায় ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। একইসঙ্গে সব ধরণের ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রমের সামগ্রিক ঝুঁকি ২৭ শতাংশ হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে একই রোগের লক্ষণ প্রকাশ প্রায় আড়াই বছর পিছিয়ে যায়। শুধু তাই নয় এই অভ্যাসের ফলে পরবর্তীতে বিষন্নতার ঝুঁকি ১১ শতাংশ এবং উদ্বেগের ঝুঁকি ২০ শতাংশ কমে যায়।

এমআরআই স্ক্যানের ফলাফলেও মস্তিষ্কের ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট চিত্র ধরা পড়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রারম্ভিক বয়সে চিনি কম খাওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে ধূসর পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে এবং স্মৃতিশক্তির প্রধান কেন্দ্র হিপ্পোক্যাম্পাস ও থ্যালামাসের আয়তন বড় থাকে। এছাড়া তাদের মস্তিষ্কে ক্ষতিকর হোয়াইট ম্যাটার হাইপারইন্টেনসিটির পরিমাণ অনেক কম দেখা গেছে, যা মূলত মাইক্রোভাস্কুলার (সূক্ষ্ম রক্তনালীর) ক্ষতি কম হওয়ার লক্ষণ।

চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় ও একদম ছোটবেলায় বেশি চিনি খেলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, মাতৃত্বকালীন হাইপারগ্লাইসেমিয়া এবং দেহে প্রদাহের সৃষ্টি হয়, যা শিশুর নিউরোডেভেলপমেন্ট বা স্নায়ুর বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে এবং পরবর্তীতে সিন্যাপ্সের পরিণত হওয়ার স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করে। অন্যদিকে প্রারম্ভিক জীবনে চিনি কম খেলে প্রাপ্তবয়সে টাইপ-টু ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে, যা বয়স্ক বয়সে স্মৃতিভ্রমের প্রায় পঁচিশ শতাংশ ঝুঁকির জন্য দায়ী।

উপরন্তু, জীবনের শুরুতেই চিনির অভ্যাস না থাকলে শিশুরা বড় হয়েও মিষ্টি বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি তুলনামূলক কম আসক্ত হয়। তাই সন্তানসম্ভবা মা ও অভিভাবকদের প্রথম এক হাজার দিনে চিনি ব্যবহারে সম্পূর্ণ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ, এই সময়টি মানুষের আজীবনের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাস্থ্যের স্থায়ী ভিত্তি গড়ে দেয়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

  • Related Posts

    আঘাত হানছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে

    ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে প্রবল বেগে আঘাত হানতে শুরু করেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। ভারতের আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার মধ্যরাতে প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে এই…

    আজকের খেলা: ০৩ নভেম্বর ২০২৬

    জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ডের একাধিক ম্যাচ আছে আজ। এছাড়াও চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে আজ মাঠে নামবে বার্সেলোনা, পিএসজি, বায়ার্ন, ইন্টার ও আতলেতিকো। ক্রিকেট জাতীয় ক্রিকেট লিগ সিলেট–চট্টগ্রাম ময়মনসিংহ–খুলনা…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    আঘাত হানছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে

    আঘাত হানছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে

    আজকের খেলা: ০৩ নভেম্বর ২০২৬

    আজকের খেলা: ০৩ নভেম্বর ২০২৬

    ভোরে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দফায় দফায় বিস্ফোরণ

    ভোরে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দফায় দফায় বিস্ফোরণ

    নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান

    নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান

    ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সতেজ পরিবেশ রাখবে যেসব গাছ

    ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সতেজ পরিবেশ রাখবে যেসব গাছ

    বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী দল ঘোষণা দক্ষিণ আফ্রিকার

    বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী দল ঘোষণা দক্ষিণ আফ্রিকার