ঘুমে সাহায্য করে ‘হোয়াইট নয়েজ’, শিশুর ক্ষেত্রে মানতে হবে কিছু নিয়ম

আশপাশের হঠাৎ শব্দে যাদের ঘুম ভেঙে যায়, তাদের জন্য ‘হোয়াইট নয়েজ মেশিন’ নামের একটি যন্ত্র বেশ কাজে দিতে পারে। এই যন্ত্রটি একটানা এক ধরণের শব্দ তৈরি করে চারপাশের বিরক্তিকর আওয়াজগুলোকে আড়াল করে দেয়। তবে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই যন্ত্র ব্যবহারের সময় শব্দের মাত্রা কতটুকু রাখা হচ্ছে এবং এটি কতক্ষণ চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

এনডিটিভির একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হোয়াইট নয়েজ এমন একটি শব্দ যেখানে মানুষের শোনার সীমার মধ্যে থাকা সব ধরণের কম্পাঙ্কের শব্দ সমান মাত্রায় থাকে। এটি শুনতে অনেকটা সিগন্যাল ছাড়া টেলিভিশন বা রেডিওর একটানা ‘শোঁ শোঁ’ আওয়াজের মতো। আধুনিক কিছু যন্ত্রে বৃষ্টি পড়া বা দূরের মেঘের ডাকের মতো শব্দও শোনানো যায়। এই একটানা আওয়াজ চারপাশের হুটহাট শব্দকে ঢেকে দিয়ে ঘুমের জন্য একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে দ্রুত ঘুম আসে এবং দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে থাকা সহজ হয়। একইভাবে, আশপাশের বিরক্তিকর শব্দ আড়াল করে কাজে মনোযোগ ধরে রাখতেও এটি সাহায্য করতে পারে।

অনেক নতুন মা-বাবা শিশুকে শান্ত করতে ও ঘুম পাড়াতে এই যন্ত্রটি ব্যবহার করে থাকেন। ঘরের হঠাৎ জোরালো শব্দে শিশুর ঘুম ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কমাতে এই একটানা আওয়াজ কাজে আসে। তবে চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সময় বেশি জোরে এই শব্দ শোনার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে নবজাতক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘ সময় চললে শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দিনরাত উচ্চমাত্রার শব্দে থাকলে শিশুর শব্দ বোঝার ক্ষমতা ও ভাষার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া, এই আওয়াজে একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে পরে এটি ছাড়া শিশুর ঘুমাতেও অসুবিধা হতে পারে।

তাই নিরাপদ ব্যবহারের জন্য এই যন্ত্রটি শিশুর বিছানা থেকে অন্তত দুই মিটার (প্রায় সাড়ে ৬ ফুট) দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটি কোনোভাবেই শিশুর বিছানার ভেতরে বা রেলিংয়ে লাগানো যাবে না। শিশু যেখানে ঘুমায়, সেখানে শব্দের মাত্রা যেন ৫০ ডেসিবেলের (শব্দের তীব্রতা মাপার একক) নিচে থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, সারা রাত এই যন্ত্র না চালিয়ে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হওয়ার জন্য ‘টাইমার’ ব্যবহার করা উচিত।

মনে রাখা দরকার, সব শিশুর জন্য এই যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। অনেক শিশুই ঘরের স্বাভাবিক পরিবেশে ভালো ঘুমায়। তাই এই যন্ত্র কেনার আগে স্বাভাবিক ও শান্ত পরিবেশে শিশুর ঘুম কেমন হয়, তা পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • Related Posts

    এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার গেট ভাঙচুর

    পুরাতন বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ হস্তান্তরের দাবিতে কঠোর কর্মসূচিতে নেমেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার গেট ভাঙচুর চালিয়েছেন। পূর্বঘোষিত…

    সাইবার হামলার আশঙ্কায় বন্ধ এনআইডি সার্ভারের কার্যক্রম

    সাইবার হামলার আশঙ্কায় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভার সাময়িক বন্ধ করে রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২৮ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এনআইডি শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে এনআইডি…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার গেট ভাঙচুর

    এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার গেট ভাঙচুর

    সাইবার হামলার আশঙ্কায় বন্ধ এনআইডি সার্ভারের কার্যক্রম

    সাইবার হামলার আশঙ্কায় বন্ধ এনআইডি সার্ভারের কার্যক্রম

    আলো স্বল্পতায় বন্ধ খেলা , সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান

    আলো স্বল্পতায় বন্ধ খেলা , সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান

    স্ট্রোক কি প্রতিরোধ যোগ্য?

    স্ট্রোক কি প্রতিরোধ যোগ্য?

    তিন-চতুর্থাংশ ভোট গণনা শেষে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট

    তিন-চতুর্থাংশ ভোট গণনা শেষে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট

    জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত কমিটি গঠন

    জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত কমিটি গঠন