এশিয়ান গেমসে হকিতে চীনের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে ২০২৮ অলিম্পিকের বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। গিফুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জিমিদের ৭-১ গোলে হারিয়েছে চীন। এই হারের ফলে আগামী পরশু থাইল্যান্ডের বিপক্ষে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
চীনের বিপক্ষে জয় পেলে এশিয়ান গেমসে পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলার সুযোগ পেত বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ২০২৮ অলিম্পিকের হকি বাছাইপর্বেও জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা থাকত। কিন্তু বড় ব্যবধানে হেরে সেই সুযোগ আর থাকল না।
এশিয়ান হকির টুর্নামেন্ট ডাইরেক্টর গোলাম গাউস জানান, এশিয়ান গেমসের শীর্ষ ছয় দল পরবর্তী আসরে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে। কোনো দল অংশ না নিলে সপ্তম দলও সরাসরি সুযোগ পেতে পারে। পাশাপাশি অলিম্পিক বাছাইপর্বে এশিয়া থেকে গেমসের শীর্ষ ছয় দল অংশ নেবে।
বাংলাদেশের জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ড জাপানে এসেছিলেন দলকে ষষ্ঠ স্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে। সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার পর চীনের কাছে ৭-১ গোলে হারের কারণ হিসেবে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি ও চোটের বিষয়টি সামনে আনেন তিনি।
পিটার বলেন, চীনের বিপক্ষে সাত গোল খাওয়ার মতো দল বাংলাদেশ নয়। দলের অনেক খেলোয়াড়ই ক্লান্ত এবং কারও কারও শারীরিক সমস্যা রয়েছে। এত কর্মকর্তা দলের সঙ্গে থাকলেও একজন ফিজিওথেরাপিস্ট না থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। এমনকি একজন খেলোয়াড়কে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজনও হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে চীনের বিপক্ষে এত বড় ব্যবধানে হারেনি বাংলাদেশ। দলের তরুণ খেলোয়াড় আমিরুল ইসলাম এই বড় পরাজয়ের পেছনে অভিজ্ঞতা ও মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন। তার মতে, দলে পর্যাপ্তসংখ্যক ভালো খেলোয়াড় নেই।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় জিমি, রোমান ও মিমোর মতো অনেকেই শতাধিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। তারপরও আমিরুল কেন অভিজ্ঞতার ঘাটতির কথা বলছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
তার মতে, ভারতে একজন খেলোয়াড় মাত্র দুই বছরের মধ্যেই ১০০ ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতে পারেন। বিপরীতে বাংলাদেশের অনেক খেলোয়াড় ১২-১৩ বছরেও ১০০ ম্যাচ খেলতে পারেন না। এমনকি কেউ কেউ এক বছরে একটি ম্যাচ খেলার সুযোগও পান না। ফলে দলে সিনিয়র হলেও ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় অনেকেরই ঘাটতি থেকে যায়।






