নেক আমলের গুরুত্ব

বিশুদ্ধ নিয়ত ছাড়া কোনো নেক আমল কবুল হবে না। আমরা যেকোনো ইবাদত করি, ভালো কাজ করি, তা যেন একমাত্র আল্লাহকে খুশি করার জন্য করি। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য করি। মানুষকে খুশি করার জন্য নয়। কারণ লোকদেখানো ইবাদত কবুল হবে না। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—‘যে আখিরাতের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্য তার ফসলে প্রবৃদ্ধি দান করি। আর যে দুনিয়ার ফসল কামনা করে, আমি তাকে তা থেকে কিছু দিই এবং আখিরাতে তার জন্য কোনো অংশই থাকবে না।’ (সুরা শুরা : আয়াত-২০)। আরেক আয়াতে এসেছে—‘যে দুনিয়া চায়, আমি সেখানে তাকে দ্রুত দিয়ে দিই, যা আমি চাই, যার জন্য চাই। তারপর তার জন্য নির্ধারণ করি জাহান্নাম, সেখানে সে প্রবেশ করবে নিন্দিত, বিতাড়িত অবস্থায়। আর যে আখিরাত চায় এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে মুমিন অবস্থায়, তাদের চেষ্টা হবে পুরস্কারযোগ্য।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত-১৮-১৯)। বিখ্যাত তাবেয়ি সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রহ.) বর্ণিত হাদিসে তিনি জানান, ‘একবার লোকজন যখন প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর নিকট থেকে বিদায় নিচ্ছিল তখন সিরিয়ার অধিবাসী হজরত নাতিল (রহ.) বললেন, হে শায়খ! আপনি রসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে শুনেছেন এমন একখানা হাদিস আমাদের শুনান। তিনি বললেন, হ্যাঁ শুনাব। আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হচ্ছে এমন একজন যে শহীদ হয়েছিল। তাকে হাজির করা হবে এবং আল্লাহ তার নিয়ামতরাশির কথা তাকে বলবেন এবং সে তার সবটাই চিনতে পারবে এবং যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে। তখন আল্লাহতায়ালা বলবেন, এর বিনিময়ে কি আমল করেছিলে? সে বলবে, আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য যুদ্ধ করেছি, এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। তখন আল্লাহতায়ালা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি বরং এজন্যই যুদ্ধ করেছিলে, যাতে লোকে তোমাকে বলে তুমি বীর। তা তো বলা হয়েছে। এরপর নির্দেশ দেওয়া হবে। সে মতে তাকে উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার করা হবে, যে জ্ঞান অর্জন ও বিতরণ করেছে এবং কোরআন অধ্যয়ন করেছে। তখন তাকে হাজির করা হবে। আল্লাহতায়ালা তার প্রদত্ত নিয়ামতের কথা তাকে বলবেন এবং সে তা চিনতে পারবে (এবং যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে)। তখন আল্লাহতায়ালা বলবেন, এত বড় নিয়ামত পেয়ে বিনিময়ে তুমি কী করলে? জবাবে সে বলবে, আমি জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তা শিক্ষা দিয়েছি এবং আপনারই (সন্তুষ্টি লাভের) উদ্দেশ্যে কোরআন অধ্যয়ন করেছি। জবাবে আল্লাহতায়ালা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। তুমি তো জ্ঞান অর্জন করেছিলে এজন্য, যাতে লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলে। কোরআন তিলাওয়াত করেছিলে এজন্য, যাতে লোকে বলে সে একজন কারি। তা বলা হয়েছে। তারপর আদেশ দেওয়া হবে এবং তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

♦ লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা

  • Related Posts

    পূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

    দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ৫ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশের মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকান রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। এ বিষয়ে…

    যেসব ছোট লক্ষণ হতে পারে স্ট্রোকের বড় সতর্কবার্তা

    স্ট্রোক বলতেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে হঠাৎ পড়ে যাওয়া, অচেতন হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়ার দৃশ্য। তবে সব স্ট্রোক এতটা নাটকীয়ভাবে শুরু হয় না। অনেক সময়…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    নেক আমলের গুরুত্ব

    নেক আমলের গুরুত্ব

    পূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

    পূজায় রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা  রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

    যেসব ছোট লক্ষণ হতে পারে স্ট্রোকের বড় সতর্কবার্তা

    যেসব ছোট লক্ষণ হতে পারে স্ট্রোকের বড় সতর্কবার্তা

    ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি

    ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি

    ভরা মৌসুমে পদ্মায় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না, জেলেদের মাথায় হাত

    ভরা মৌসুমে পদ্মায় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না, জেলেদের মাথায় হাত

    এলপি গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ল যত

    এলপি গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ল যত