পিত্তথলিতে পাথর, অস্ত্রোপচার নাকি ওষুধ কোনটিতে সমাধান?

পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে কি না এবং এর কারণে কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে কি না, তা জানতে বিভিন্ন পরীক্ষা ও চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পরীক্ষা হলো পেটের আলট্রাসনোগ্রাম।
এ পরীক্ষায় পেটের ওপর একটি বিশেষ যন্ত্র সামনে-পেছনে নড়াচড়া করানো হয়। যন্ত্রটি থেকে পাওয়া সংকেত কম্পিউটারে পাঠানো হলে পেটের ভেতরের বিভিন্ন অঙ্গের ছবি তৈরি হয়। এর মাধ্যমে পিত্তথলিতে পাথরের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়।

সাধারণ আলট্রাসনোগ্রামে ছোট পাথর ধরা না পড়লে এন্ডোস্কোপিক আলট্রাসনোগ্রাম করা হতে পারে। এ পরীক্ষায় মুখ দিয়ে একটি সরু ও নমনীয় নল পরিপাকতন্ত্রের ভেতর প্রবেশ করানো হয়। নলের সঙ্গে থাকা ছোট আলট্রাসাউন্ড যন্ত্র শব্দতরঙ্গ তৈরি করে আশপাশের টিস্যুর বিস্তারিত ছবি সংগ্রহ করে। ফলে ছোট পাথরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

এ ছাড়া পিত্তথলির বিশেষ এক্স-রে পরীক্ষা, যকৃত ও পিত্তনালির কার্যকারিতা নির্ণয়ের স্ক্যান, কম্পিউটারাইজড টমোগ্রাফি, চৌম্বকীয় অনুরণনভিত্তিক পিত্তনালি ও অগ্ন্যাশয়ের পরীক্ষা এবং এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোল্যাঞ্জিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফি করা হতে পারে। শেষের পরীক্ষাটির মাধ্যমে পিত্তনালির পাথর শনাক্ত হলে একই প্রক্রিয়ায় তা অপসারণও করা যায়।

এন্ডোস্কোপিক রেট্রোগ্রেড কোল্যাঞ্জিওপ্যানক্রিয়াটোগ্রাফিতে বিশেষ রং ব্যবহার করে এক্স-রে ছবিতে পিত্তনালি ও অগ্ন্যাশয়ের নালি স্পষ্ট করা হয়। এ সময় ক্যামেরাযুক্ত একটি সরু ও নমনীয় নল গলা দিয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করানো হয়। এরপর নলের ভেতর দিয়ে একটি সরু নলের মাধ্যমে পিত্তনালি ও অগ্ন্যাশয়ের নালিতে বিশেষ রং পৌঁছে দেওয়া হয়।
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেও পিত্তথলির পাথরের কারণে সংক্রমণ, জন্ডিস, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ বা অন্যান্য জটিলতা হয়েছে কি না, তা জানা যায়।

কখন চিকিৎসা প্রয়োজন

পিত্তথলিতে পাথর থাকলেও যাদের কোনো উপসর্গ দেখা দেয় না, তাদের বেশির ভাগেরই চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। রোগীর উপসর্গ ও বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করে চিকিৎসক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করেন। তবে পেটের ওপরের ডান দিকে ব্যথা বাড়তে থাকাসহ পিত্তথলির জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রয়োজনে পিত্তথলি অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়। পিত্তথলিতে পাথর বারবার হওয়ার আশঙ্কা থাকায় চিকিৎসক এ অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিতে পারেন। পিত্তথলি অপসারণের পর যকৃত থেকে পিত্তরস সরাসরি ক্ষুদ্রান্ত্রে চলে যায়।

পিত্তথলি ছাড়াও মানুষ স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে। এটি অপসারণ সাধারণত খাবার হজমের সক্ষমতায় প্রভাব ফেলে না। তবে সাময়িকভাবে ডায়রিয়া হতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার ওষুধের মাধ্যমে পিত্তথলির পাথর গলানোর চেষ্টা করা হয়। এতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। আবার চিকিৎসা বন্ধ করলে পাথর পুনরায় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়, এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণত এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

ল্যাপারোস্কপিক অস্ত্রোপচারে পেটের কয়েকটি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে বিশেষ অস্ত্রোপচার যন্ত্র ও ছোট ভিডিও ক্যামেরা প্রবেশ করানো হয়। চিকিৎসকের কাজের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি করতে পেটে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস প্রবেশ করানো হয়।

তথ্যসূত্র: মায়োক্লিনিক

  • Related Posts

    শ্রীলংকায় বিশাল গণকবরের সন্ধান, ৫৭২ কঙ্কাল উদ্ধার

    শ্রীলংকার উত্তরাঞ্চলের চেম্মানি এলাকার একটি গণকবর থেকে শিশু ও নবজাতকসহ মোট ৫৭২ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলা দেশটির রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সময় যারা গুম বা নিখোঁজ হয়েছিলেন,…

    ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৫৫

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬৫৫ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ১৯০ জনের মৃত্যু…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    শ্রীলংকায় বিশাল গণকবরের সন্ধান, ৫৭২ কঙ্কাল উদ্ধার

    শ্রীলংকায় বিশাল গণকবরের সন্ধান, ৫৭২ কঙ্কাল উদ্ধার

    ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৫৫

    ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৫৫

    মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকবেন ডি মারিয়াও

    মেসির বিদায়ী ম্যাচে থাকবেন ডি মারিয়াও

    সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাত সদস্যসহ নিহত ৯

    সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাত সদস্যসহ নিহত ৯

    সৃজিতের সিনেমায় চন্দ্রমুখীর চরিত্রে কৌশানী

    সৃজিতের সিনেমায় চন্দ্রমুখীর চরিত্রে কৌশানী

    দেশে দাম বাড়লেও বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতন

    দেশে দাম বাড়লেও বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতন