রাতের বেলাতেও সূর্যের আলো কিনে ব্যবহারের এক অভিনব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্পেস স্টার্টআপ ‘রিফ্লেক্ট অরবিটাল’। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহাকাশে বিশাল আকৃতির আয়না স্থাপন করে পৃথিবীতে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করা হবে। এই আলো সৌর খামারগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে, দুর্যোগকবলিত এলাকা আলোকিত করতে এবং উদ্ধারকাজে সহায়তা করবে।
রিফ্লেক্ট অরবিটাল নিম্ন কক্ষপথে (এলইও) ১৮x১৮ মিটার আয়না পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে, যা সূর্য অস্ত যাওয়ার পরও নির্দিষ্ট এলাকায় আলো প্রতিফলিত করতে পারবে। গ্রাহকেরা অ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকা নির্বাচন করে এই আলো কিনতে পারবেন। পরীক্ষামূলক আয়নাটি প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা আলোকিত করবে এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী এর দিক পরিবর্তন করা যাবে।
২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই উদ্বোধনী মিশনটি পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫০ হাজার স্যাটেলাইট স্থাপনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে রিফ্লেক্ট অরবিটালের। তাদের মতে, প্রতিফলিত এই আলো চাঁদের আলোর মতো হবে এবং স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি আরও উজ্জ্বল ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
তবে এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা নিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে রাতের আকাশ এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিফলিত সূর্যালোক বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে আসার সময় আলো ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে গ্রাহকের চাহিদার বাইরেও অনেক বড় এলাকা আলোকিত হতে পারে। আয়নাগুলো ১৪ কিলোমিটার দূরে থাকলেও পৃথিবীতে সৃষ্ট আলোর আভা পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হবে। এর অর্থ হলো, যারা এই আলো চাননি, তারাও এর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন।
মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি) গত জুলাইয়ে এই প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। তবে কিছু জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদী গোষ্ঠী এর বিরোধিতা করে অনুমোদন বাতিলের দাবি জানিয়েছে।






