ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার গজারিয়া গ্রামে আগুনে পুড়ে গেছে ১০টি বসতঘর। এসব ঘরে বসবাস করা ১৪টি পরিবার আগুনে হারিয়েছে তাদের আসবাবপত্র, পোশাকসহ জমানো সবকিছু। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে জেলা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে আলফাজ মিয়ার ঘরের বৈদ্যুতিক মিটারে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতার কারণে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
একপর্যায়ে আগুনে ১০টি বসতঘর পুড়ে যায়। এসব ঘরে থাকা ১৪টি পরিবারের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র ও জমানো মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনের পর পরিবারগুলো সহায়-সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছেন নোয়াব মিয়া, মো. মামুন, মো. রুবেল মিয়া, মো. কামাল মিয়া, মো. মহিউদ্দিন, মো. শাহিন, মো. সোহেল মিয়া, আলফাজ মিয়া, মো. শামীম মিয়া, মো. হানিফা মিয়া, ছোটন মিয়া, আলতাব মিয়া, মো. শরীফ মিয়া ও মো. রনি মিয়া।
অগ্নিকাণ্ডের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা দেন।
জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান সিরাজুল ইসলাম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।







