১ ম্যাচে ২ গোল গোলকিপারের!

গোলকিপারের কাজটা গোল ঠেকানোর। কিন্তু সেই গোলরক্ষকই যদি গোল করে বসেন প্রতিপক্ষ বক্সে গিয়ে, তাহলে বিষয়টা বিস্ময়ের জন্ম দেয়। গোলের সংখ্যা যদি ১ ম্যাচে ২টি হয়, তাহলে তো কথাই নেই! এই বিরল দৃশ্যের দেখা মিলেছে ডাচ ফুটবল লিগ এরেডিভিসিতে। এই কীর্তিটি গড়েছেনও এক পরিচিত নাম, রোনাল্ড কোম্যান জুনিয়র।

নামটা পরিচিত ঠেকছে? ঠিকই ধরেছেন, তিনি ডাচ ফুটবল কিংবদন্তি ও সদ্য সাবেক হওয়া নেদারল্যান্ডস দলের কোচ রোনাল্ড কোম্যানের ছেলে। বাবা ডিফেন্ডার হয়েও গোল করাকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছিলেন। এবার তার ছেলে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন, গোল করছেন গোলকিপার হয়েও!

এরেডিভিসির দল টেলস্টারের গোলকিপার হিসেবে খেলেন কোম্যান জুনিয়র। সেখানেই সম্প্রতি ইতিহাসটা গড়েছেন তিনি। ৩১ বছর বয়সী এই তারকা দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে এগিয়ে এসেছেন। ক্যামবুরের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে এক পয়েন্ট বাঁচিয়েছে তার দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই কঠিন সময় পার করছিল টেলস্টার। খেলার মাত্র ২২ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন নকভি থোরিসন। এরপর এক ঘণ্টারও বেশি সময় দশজন নিয়ে খেলতে হয় স্বাগতিকদের। বিরতির পর সাত মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ক্যামবুর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। তখন মনে হচ্ছিল, হারের মুখেই পড়তে যাচ্ছে টেলস্টার।

তবে দ্বিতীয় গোল হজম করার মাত্র তিন মিনিট পরই পেনাল্টি পায় টেলস্টার। চাপের মুখে দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন কোম্যান জুনিয়র। মাঠের এক প্রান্ত থেকে দৌড়ে এসে ১২ গজ দূর থেকে নিখুঁতভাবে গোল করেন তিনি, যা দলকে আশার আলো দেখায়। নাটক তখনও শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের ১১ মিনিটে আরেকটি পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি।

এই দুর্দান্ত জোড়া গোলের ফলে কোম্যান জুনিয়রের ক্যারিয়ারের সব গোলই এখন ২০২৬ সালে টেলস্টারের হয়ে করা। চাপের মুহূর্তে গোল করায় তার একটা আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। গত মৌসুমের শেষ দিনে ভলেন্ডামের বিপক্ষে ৮৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় পায় দল, যা এরেডিভিসিতে টিকে থাকা নিশ্চিত করে।

এই কীর্তির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা আসছে তার বাবা কোম্যানের। ডিফেন্ডার হয়েও গোল করায় খেলার ইতিহাসে অন্যতম সফল ছিলেন তিনি। বার্সেলোনা, পিএসভি, আয়াক্স আর ফেইনুর্দের হয়ে খেলা এই তারকা ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে করেছেন ২৫৪ গোল। এর মধ্যে ছিল ১১৫টি পেনাল্টি গোল। যদিও ক্যারিয়ারে ১৬টি পেনাল্টি মিসও করেছিলেন তিনি।

বাবা কোম্যান পরে কোচিং ক্যারিয়ারেও সফল হয়েছেন। সাউদাম্পটন, এভারটন আর বার্সেলোনার দায়িত্ব সামলানোর পর সবশেষ নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের কোচ ছিলেন তিনি। আর তার ছেলে বেছে নিয়েছেন গোলরক্ষকের নিজস্ব পথ।

কোম্যান জুনিয়রের এই ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছিল বার্সেলোনায়। বাবার ক্যাম্প ন্যুতে খেলার সময়ই তার জন্ম হয়। নেদারল্যান্ডসে আলমেরে সিটির হয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। এরপর যোগ দেন টপ ওসে। ২০২১ সালের গ্রীষ্মে টেলস্টারে আসেন তিনি এবং ২০২৫ সালে প্লে-অফের মাধ্যমে দলের উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

রোববারের এই ড্রয়ের পর চার ম্যাচ শেষে টেবিলের ১৩ নম্বরে আছে টেলস্টার। ৪৭ বছর পর শীর্ষ লিগে ফেরা এই দলটি এখনও নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

  • Related Posts

    আলো স্বল্পতায় বন্ধ খেলা , সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব পড়ল মিরপুর টেস্টেও। আকাশে মেঘ থাকায় আগে থেকেই ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আকাশে কালো মেঘের পরিমাণ বাড়ায় শেষ পর্যন্ত খেলা বন্ধ করতে হলো…

    স্ট্রোক কি প্রতিরোধ যোগ্য?

    স্ট্রোক একটি মারাত্মক রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ ছিল স্ট্রোক। ওই বছর মোট মৃত্যুর প্রায় ১০ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল এই রোগ।…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    আলো স্বল্পতায় বন্ধ খেলা , সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান

    আলো স্বল্পতায় বন্ধ খেলা , সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান

    স্ট্রোক কি প্রতিরোধ যোগ্য?

    স্ট্রোক কি প্রতিরোধ যোগ্য?

    তিন-চতুর্থাংশ ভোট গণনা শেষে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট

    তিন-চতুর্থাংশ ভোট গণনা শেষে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট

    জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত কমিটি গঠন

    জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত কমিটি গঠন

    ইনস্টাগ্রামে দেখা যাবে ৯০ মিনিটের ভিডিও, আসছে নতুন ফিচার

    ইনস্টাগ্রামে দেখা যাবে ৯০ মিনিটের ভিডিও, আসছে নতুন ফিচার

    অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে সেশেলসকে হারাল বাংলাদেশ

    অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে সেশেলসকে হারাল বাংলাদেশ