কলা এমন একটি ফল যা সারা বছরই পাওয়া যায়। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে শরীরচর্চার আগে, এমনকি রাতে হালকা খিদে পেলেও অনেকেই কলা খান। কিন্তু কোন সময়ে কলা খেলে সবচেয়ে বেশি উপকারিতা মিলবে-তা নিয়ে অনেকেরই নানা মত রয়েছে। যদিও কলা খাওয়ার কোনও একটি নির্দিষ্ট ‘সেরা সময়’নেই। দৈনন্দিন রুটিন, শারীরিক প্রয়োজন এবং মোট খাদ্যতালিকার উপর নির্ভর করে কোন সময় কলা খাবেন তা বেছে নিতে পারেন।
সকালে কলা খাওয়া কি ভালো?
সকালে কলা খেলে শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করতে পারে। কলায় থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য শক্তির উৎস। তবে একেবারে খালি পেটে কলা খেলে সবার একই রকম প্রতিক্রিয়া হয় না। কারও কারও পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। যাদের এমন সমস্যা দেখা দেয় তারা কলার সঙ্গে বাদাম, দই বা অন্য কোনও প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে পারেন।
শরীরচর্চার আগে কলা খেলে কী হয়
শরীরচর্চা শুরুর আগে দ্রুত শক্তির প্রয়োজন হলে কলা খাওয়া যেতে পারে। ব্যায়ামের প্রায় আধ ঘণ্টা বা ১ ঘণ্টা আগে কলা খেলে এর কার্বোহাইড্রেট শরীরকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি দিতে পারে। পাশাপাশি কলায় থাকা পটাশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ব্যায়ামের আগে না,পরেও কলা খাওয়া যেতে পারে। দীর্ঘ বা বেশি পরিশ্রমের ব্যায়াম হলে কলার সঙ্গে অল্প বাদাম বা দইয়ের মতো প্রোটিনযুক্ত খাবার যোগ করতে পারেন।
ব্যায়ামের পরেও কলা খেতে পারেন। ওয়ার্কআউটের পর শরীরের শক্তির ভাণ্ডার পুনরায় পূরণ করতে কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন হয়। সেই সময়ে কলা খাওয়া যেতে পারে। তবে পেশি পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু কলা না খেয়ে এর সঙ্গে প্রোটিনযুক্ত খাবার যোগ করলে খাদ্যতালিকা আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।
রাতে কলা খাওয়া কি ঠিক?
রাতে কলা খাওয়া নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে । যদিও রাতে কলা যাবে না- এমন কোনও বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই । রাতের খাবারের পরে মিষ্টি কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হলে পরিমাণ বুঝে একটি কলা খেতে পারেন। তবে ভারী খাবারের পর কলা খেলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। এ কারণে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে খাওয়াই ভালো।
কখন কলা খাবেন?
সকালের নাশতায় ব্যায়ামের আগে বা পরে কিংবা দিনের মাঝখানে—সব সময়েই কলা খাওয়া সম্ভব। আপনার শরীরের প্রয়োজন এবং গোটা দিনের খাদ্যতালিকা অনুযায়ী পরিমাণ বুঝে খাবেন। কলা স্বাস্থ্যকর ফল হলেও কলার পাশাপাশি অন্যান্য ফল, সবজি, ডাল, সম্পূর্ণ শস্য ও প্রোটিনের মতো বিভিন্ন ধরনের খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। সূত্র: আজকাল







