কালো কিশমিশের ৭ অসাধারণ গুণ

বর্তমান সময়ে মানুষ নানারকমের ডায়েট চার্ট অনুসরণ করেন। সকালের খাদ্যতালিকায় দেখা যায় পুষ্টিকর খাবারের জুড়ি। তবে অনেকেই জানেন না মাত্র কয়েকটা কালো কিশমিশ আপনার শরীরে লক্ষণীয় পরিবর্তন এনে দিতে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে পেটের যাবতীয় গোলমাল দূর করতে কালো কিশমিশ বেশ উপকারি। আর যদি সরারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে এর পানিসহ খাওয়া যায় তাহলে তো এর গুণের শেষ নেই। এগুলো ছোট তবে পুষ্টির একটি ভালো উৎস।

কালো কিশমিশ কী?

কালো কিশমিশ তৈরি হয় নির্দিষ্ট ধরণের কালো আঙ্গুর শুকিয়ে। এগুলো প্রকৃতিক অথবা যান্ত্রিক উপায়ে শুকানো হয়। এটি এমন একটি খাবার শুকানোর পদ্ধতি যা পুষ্টি ঘনীভূত করে এবং সমৃদ্ধ স্বাদ এবং মিষ্টতার সঙ্গে চিবানোর গঠন তৈরি করে। কিশমিশের স্বাস্থ্য উপকারিতা জানার আগে আপনাকে আগে বুঝতে হবে এটি কেনো এত উপকারি।

কিশমিশের প্রিতি ১০০ গ্রামে রয়েছে—

* ২৯৯ কিলো ক্যালোরি;

* ৭৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট;

* ৫৯ গ্রাম প্রাকৃতিক শর্করা;

* ৩.৭ গ্রাম ফইবার;

* ৩.১ গ্রাম প্রেটিন;

* ০.৫ গ্রাম ফ্যাট;

* ৫০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৩২ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন সি, বি৬, কে;

* অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

এতো সমৃদ্ধ পুষ্টিগুণ থাকার ফলে কালো কিশমিশ হাড় মজবুত করা, ত্বকের উজ্জল করা সহ আরো অনেক দুর্দান্ত কাজ করে।

চলুন জেনে নিই নিয়মিত পানিতে ভিজিয়ে কালো কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস আপনার শরীরের জন্য কতটা উপকারি—

পুষ্টিবিদ লিউক বলছেন, ‘প্রথমত ভিজিয়ে খেলে কিশমিশে থাকা সমস্ত ধুলো-ময়লা বা রাসায়নিক দূর হবে। তার সমস্ত পুষ্টিগুণ শরীরের জন্য সহজ গ্রহণযোগ্য হবে। পাশাপাশি কিশমিশ পানি শুষে ফুলে থাকায় শরীরও আর্দ্র রাখবে।’ তবে এ ছাড়াও আরও নানা উপকার মিলবে।

১। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে: কালো কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ডায়েটরি ফাইবার। প্রতিদিন সকালে ভেজানো কালো কিশমিশে খেলে তা আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় করে তোলে। এটি পাকস্থলীতে প্রয়োজনীয় ডাইজেস্টিভ এনজাইম বা পাচক রসের ক্ষরণ বাড়ায়। যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। সারা দিনের খাবার হজম করার ক্ষমতা ঠিক থাকে।

২। আয়রনের মাত্রা: কালো কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, যা শরীরে গেলে লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধি করে। ফলে রক্তাল্পতার সমস্যা মেটে। সার্বিক কর্মশক্তি বাড়ে। খালি পেটে ভেজানো কিশমিশ খেলে তার থেকে আয়রন গ্রহণ করতে সুবিধা হয় শরীরের।

৩। ত্বকের স্বাস্থ্য: কালো কিশমিশে রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা জোরালো প্রদাহনাশকও। এটি ত্বকে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ায়। ফলে ত্বক থাকে উজ্জ্বল, টানটান।

৪। হার্ট: খালিপেটে ভেজানো কালো কিশমিশ খেলে শরীরে অ্যান্থোসায়ানিন যায় পূর্ণ মাত্রায়। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে উদ্বেগ কমায়। হাইপারটেনশন দূরে থাকে। ফলে হার্টের স্বাস্থ্যও থাকে ভাল।

৫। দাঁত এবং মাড়ি: দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে কালো কিশমিশ উপকারী বলে জানাচ্ছেন লিউক। তিনি বলছেন, কালো কিশমিশে রয়েছে ওলেয়ানোলিক অ্যাসিড। যা মুখে জন্মানো অনুজীব এবং ব্যাক্টেরিয়াকে মারতে সাহায্য করে। ফলে মুখে দুর্গন্ধের মতো সমস্যা দূরে থাকে।

৬। স্ত্রীরোগ: রক্ত পরিস্রুত করতে সাহায্য করে কালো কিশমিশ। কালো কিশমিশে থাকা নানা ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে। ফলে গর্ভাশয় এবং জরায়ুতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। পিসিওএস, অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা, ঋতুস্রাবের সময় রক্ত জমাট বাঁধার মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

৭। তীব্র অ্যসিডিটি দূর করতে সহায়ক: যারা প্রতিনিয়ত অ্যাসিডিটি বা অম্বলের সমস্যায় ওষুধ খান, তাদের জন্য কালো কিশমিশ প্রাকৃতিক প্রতিষেধক। এতে থাকা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম রক্ত ও পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিডের মাত্রা প্রশমিত করে। ফলে হাইপার অ্যসিডিটির সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পাওয়া যায়।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অ্যান্থোসায়ানিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ক্যানসার প্রতিরোধে কাজে লাগে। শরীরে ক্যানসারের বাসা বাঁধা, তার বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করতে পারে কালো কিশমিশে থাকে এই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট।

যেভাবে খেলে বেশি উপকার পাবেন—

রাতে ঘুমানোর আগে কয়েকটা কালো কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সরারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখার পর সকালে উঠে খালি পেটে পানিসহ কিশমিশগুলো খেয়ে ফেলুন।

এভাবে নিয়মিত খেলে আপনি নিজেই আপনার শরীরের আমূল পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

  • Related Posts

    আলো স্বল্পতায় বন্ধ খেলা , সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব পড়ল মিরপুর টেস্টেও। আকাশে মেঘ থাকায় আগে থেকেই ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আকাশে কালো মেঘের পরিমাণ বাড়ায় শেষ পর্যন্ত খেলা বন্ধ করতে হলো…

    স্ট্রোক কি প্রতিরোধ যোগ্য?

    স্ট্রোক একটি মারাত্মক রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৮ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ ছিল স্ট্রোক। ওই বছর মোট মৃত্যুর প্রায় ১০ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল এই রোগ।…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    আলো স্বল্পতায় বন্ধ খেলা , সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান

    আলো স্বল্পতায় বন্ধ খেলা , সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান

    স্ট্রোক কি প্রতিরোধ যোগ্য?

    স্ট্রোক কি প্রতিরোধ যোগ্য?

    তিন-চতুর্থাংশ ভোট গণনা শেষে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট

    তিন-চতুর্থাংশ ভোট গণনা শেষে এগিয়ে নেতানিয়াহুর জোট

    জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত কমিটি গঠন

    জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত কমিটি গঠন

    ইনস্টাগ্রামে দেখা যাবে ৯০ মিনিটের ভিডিও, আসছে নতুন ফিচার

    ইনস্টাগ্রামে দেখা যাবে ৯০ মিনিটের ভিডিও, আসছে নতুন ফিচার

    অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে সেশেলসকে হারাল বাংলাদেশ

    অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে সেশেলসকে হারাল বাংলাদেশ