শরীর সুস্থ রাখতে এবং ফিটনেস ধরে রাখতে জিমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়িতেও ব্যায়াম করা যায়। তবে বাড়িতে জিম তৈরির কথা ভাবলেই অনেকে ট্রেডমিল, এক্সারসাইজ বাইক কিংবা বড় বড় ব্যায়ামের যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা করেন। এতে খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি ঘরের অনেক জায়গাও দখল হয়ে যায়। অথচ বাড়িতে কার্যকর একটি জিম তৈরি করতে শুরুতেই একগাদা যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। বরং অল্প জায়গায় রাখা যায় এবং একাধিক ব্যায়ামে ব্যবহার করা সম্ভব, এমন ছয়টি সরঞ্জাম দিয়েই শুরু করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে ভালো ব্যায়ামের সরঞ্জাম সেটিই, যা নিয়মিত ব্যায়াম করতে উৎসাহিত করে এবং ধীরে ধীরে শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
কেনার আগে জায়গা ও লক্ষ্য ঠিক করুন
বাড়িতে জিমের সরঞ্জাম কেনার আগে কোথায় ব্যায়াম করবেন, তা ঠিক করা জরুরি। মেঝেতে শুয়ে ব্যায়াম করা, হাত-পা ছড়িয়ে নড়াচড়া করা কিংবা স্কোয়াট করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা আছে কি না, সেটি দেখতে হবে। পাশাপাশি ব্যায়ামের পর সরঞ্জামগুলো কোথায় রাখবেন, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
আপনার লক্ষ্য পেশির শক্তি বাড়ানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নাকি হৃদযন্ত্রের সুস্থতা ধরে রাখা, সেটিও আগে নির্ধারণ করুন।
বাড়ির জিমের জন্য প্রয়োজনীয় ৬টি সরঞ্জাম
১. অ্যাডজাস্টেবল ডাম্বেল: পেশির শক্তি বাড়ানোর জন্য ডাম্বেল অত্যন্ত কার্যকর। স্কোয়াট, লাঞ্জ, রো, প্রেস ও বাইসেপ কার্লসহ বিভিন্ন ব্যায়ামে এটি ব্যবহার করা যায়। অ্যাডজাস্টেবল ডাম্বেলের সুবিধা হলো, একই সরঞ্জামে প্রয়োজন অনুযায়ী ওজন পরিবর্তন করা যায়।
২. রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড: আকারে ছোট হওয়ায় সহজেই সংরক্ষণ করা যায়। হাত, কাঁধ, পা ও নিতম্বের পেশির ব্যায়ামে এটি কাজে লাগে। বিভিন্ন মাত্রার প্রতিরোধক্ষমতাসম্পন্ন ব্যান্ডের সেট কেনা ভালো। ব্যবহারের আগে ছেঁড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, দেখে নিতে হবে।
৩. এক্সারসাইজ ম্যাট: মেঝেতে বসে বা শুয়ে ব্যায়াম, স্ট্রেচিং এবং পেটের পেশির অনুশীলনের জন্য ম্যাট প্রয়োজন। কেনার সময় আরাম, পিচ্ছিল না হওয়ার বৈশিষ্ট্য এবং সহজে পরিষ্কার করার সুবিধা বিবেচনা করুন।
৪. স্কিপিং রোপ: দড়ি লাফানোর মাধ্যমে সহজেই কার্ডিও ব্যায়াম করা যায়। এটি বহন ও সংরক্ষণ করাও সহজ। নতুনরা অল্প সময় দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে পারেন। তবে যাদের জয়েন্টের সমস্যা বা ভারসাম্যজনিত অসুবিধা রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৫. কেটলবেল: স্কোয়াট, ডেডলিফট ও বিভিন্ন শক্তিবর্ধক ব্যায়ামে এটি ব্যবহার করা যায়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ওজন নির্বাচন করা জরুরি। অতিরিক্ত ভারী কেটলবেল ব্যবহারে ব্যায়ামের কৌশল ভুল হতে পারে।
৬. পুল-আপ বার: শরীরের ওপরের অংশ ও হাতের শক্তি বাড়াতে এটি কার্যকর। তবে দরজা বা দেয়ালে স্থাপনের আগে সেটি উপযুক্ত কি না এবং সরঞ্জামটির ওজন বহনের ক্ষমতা কত, তা যাচাই করতে হবে।
শুরুতেই যেসব সরঞ্জাম না কিনলেও চলবে
ট্রেডমিল, এক্সারসাইজ বাইক, ওয়েট বেঞ্চ কিংবা বড় মাল্টি-জিম মেশিন শুরুতেই কেনার প্রয়োজন নেই। এসব সরঞ্জামের দাম বেশি এবং জায়গাও বেশি লাগে। নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরি হওয়ার পর প্রয়োজন বুঝে এগুলো কেনা যেতে পারে।
কম খরচে জিম তৈরির উপায়
শুরুতে একটি এক্সারসাইজ ম্যাট, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড ও উপযুক্ত ওজনের ডাম্বেল কিনতে পারেন। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী স্কিপিং রোপ বা কেটলবেল যুক্ত করুন। আরও উন্নত ব্যায়ামের প্রয়োজন হলে পুল-আপ বার কিনতে পারেন।
মনে রাখতে হবে, দামি সরঞ্জাম থাকলেই শরীর ফিট থাকবে না। নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক কৌশল, ধীরে ধীরে অনুশীলনের মাত্রা বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। বাড়ির জিম এমনভাবে তৈরি করুন, যাতে সেটি ব্যবহার করা সহজ হয় এবং ব্যায়ামের অভ্যাস ধরে রাখা যায়।
সূত্র: নিউজ ১৮






