থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক পর্যটকের তোলা ছবির সূত্র ধরে প্রায় ১২ কোটি বছরের পুরোনো ডাইনোসরের পায়ের ছাপ শনাক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। উদন থানি প্রদেশের ফু ফ্রাবাত জাতীয় উদ্যানের একটি প্রকৃতি ভ্রমণপথে জীবাশ্মে পরিণত হওয়া এসব ছাপ পাওয়া যায়। থাইল্যান্ডের খনিজ সম্পদ অধিদপ্তর ২০ অক্টোবর এই আবিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য থাইগারের তথ্য অনুযায়ী, পিচাই প্রাথেতসেনা (৩২) নামের এক পর্যটক পরিবারের সঙ্গে উদ্যানে বেড়াতে গিয়ে একটি প্রায় শুকনো খালের কাছে অদ্ভুত দাগগুলো দেখতে পান। ১৮ অক্টোবর তিনি দাগগুলোর ছবি তুলে একটি ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করে জানতে চান, এগুলো ডাইনোসরের পায়ের ছাপ কি না। বিষয়টি খনিজ সম্পদ অধিদপ্তরের নজরে এলে তারা ১৯ অক্টোবর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেন যে ছাপগুলো আসল।
অধিদপ্তর জানায়, ফু ফান ভূতাত্ত্বিক স্তরে পাওয়া ছয়টি পায়ের ছাপ আদি ক্রিটেসিয়াস যুগের। এগুলো মূলত থেরোপড (দুই পায়ে হাঁটা মাংসাশী ডাইনোসর) প্রজাতির। প্রতিটি ছাপ প্রায় ২৯ সেন্টিমিটার লম্বা ও ২৬ সেন্টিমিটার চওড়া। ছাপের আকার বিশ্লেষণ করে গবেষকদের ধারণা, ডাইনোসরটির নিতম্বের উচ্চতা ছিল প্রায় ১.৪২ মিটার এবং লম্বায় এটি ছিল প্রায় ৬.৩ মিটার। এর আকার থাইল্যান্ডে আগে পাওয়া একই যুগের বিলুপ্ত থেরোপড ‘সায়ামোটাইরানুস ইসানেনসিস’-এর কাছাকাছি।
দর্শনার্থী ও প্রাকৃতিক ক্ষয় থেকে এসব অমূল্য জীবাশ্ম রক্ষায় এলাকাটিতে জনসাধারণের প্রবেশ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে ওই এলাকায় মাটি খোঁড়াখুঁড়ি বা কোনো প্রমাণ না সরানোর নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে পানির কারণে হওয়া ক্ষয় রোধের ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হচ্ছে। থাইল্যান্ডের ২০০৮ সালের জীবাশ্ম সুরক্ষা আইনের আওতায় জাতীয় উদ্যান ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং চারুকলা অধিদপ্তরের সঙ্গে মিলে সেখানে একটি স্থায়ী সংরক্ষিত অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কঙ্কালের জীবাশ্মের চেয়ে পায়ের ছাপের জীবাশ্মগুলো থেকে ভিন্নধর্মী তথ্য পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের হাঁটার ভঙ্গি, পায়ের ধাপের দৈর্ঘ্য এবং তারা দলবদ্ধভাবে চলত কি না, সে সম্পর্কে ধারণা পান গবেষকেরা। প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন শেষে এলাকাটিকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পর্যটনের জন্য একটি শিক্ষামূলক স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হতে পারে।







