বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকের পাশাপাশি চুলেও নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। একসময় যে চুল ছিল ঘন ও উজ্জ্বল, ৪০ বছর পেরোনোর পর তা হয়ে উঠতে পারে রুক্ষ ও পাতলা। বাড়তে পারে চুল পড়ার সমস্যাও।
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তন চুলের স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলে। পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের আগের সময় থেকে শুরু করে মেনোপজের পর পর্যন্ত চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাই বয়সের সঙ্গে চুলের যত্নের ধরনেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
৪০-এর পর কেন বাড়ে চুলের সমস্যা?
৪০ বছর বয়সের পর নারীদের শরীরে নানা ধরনের হরমোনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে পেরিমেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রায় ওঠানামা ঘটে। এর প্রভাব পড়ে চুলের ওপরও। চুলের ঘনত্ব কমে যেতে পারে, আগের তুলনায় চুল পাতলা হতে পারে এবং চুল পড়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।
তবে শুধু হরমোনের পরিবর্তনই চুল পড়ার কারণ নয়। জিনগত বৈশিষ্ট্য, পুষ্টির ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপ এবং চুলের যত্নে ভুল অভ্যাসও এর জন্য দায়ী হতে পারে। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে চুলের যত্নে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
চুলে তেল মাখা কি সত্যিই উপকারী?
চুলে তেল মাখার অভ্যাস দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে নারকেল তেল চুলের যত্নে বেশ পরিচিত। এটি চুলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে এবং শ্যাম্পু করার সময় চুলের প্রোটিনের ক্ষয় কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও রুক্ষতা কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
তবে তেল মাখলেই চুল পড়া বন্ধ হবে কিংবা নতুন চুল গজাবে, এমন নয়। বরং কারও কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেল ব্যবহারে মাথার ত্বকে তৈলাক্তভাব, খুশকি বা ত্বকের অন্যান্য সমস্যা বাড়তে পারে। তাই নিজের চুল ও মাথার ত্বকের ধরন বুঝে তেল ব্যবহার করা ভালো। সারা রাত তেল মেখে রাখতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।
চুলের যত্ন নেবেন যেভাবে
বয়স বাড়ার সঙ্গে চুলের যত্নে প্রথমেই নজর দিতে হবে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার নির্বাচনে। চুলের ধরন অনুযায়ী মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু অনেকের শুষ্ক চুলের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর চুলের মাঝখান থেকে আগা পর্যন্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করলে রুক্ষতা ও জট কমে।
সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন নারকেল বা সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন। তেল লাগানোর সময় মাথার ত্বকে জোরে ঘষাঘষি না করে আলতো হাতে মালিশ করুন। অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়া এড়িয়ে চলুন।
খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন। ডিম, মাছ, ডাল, বাদাম, আখরোট ও পুষ্টিকর বীজ চুলের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।
পাশাপাশি চুলে ঘন ঘন রং করা, রাসায়নিক উপাদান দিয়ে পরিচর্যা এবং অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ করে চুল সাজানো কমাতে হবে। ভেজা চুল জোরে ঘষে মোছা বা খুব শক্ত করে বেঁধে রাখাও ঠিক নয়। চুল আঁচড়ানোর জন্য চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করতে পারেন।
ঘুম ও জীবনযাত্রার দিকেও নজর দিন
চুল ভালো রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম জীবনযাপন জরুরি। প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়লে কিংবা চুলের ঘনত্ব দ্রুত কমতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, এর পেছনে হরমোনের পরিবর্তন ছাড়াও থাইরয়েডের সমস্যা বা আয়রনের ঘাটতির মতো কারণ থাকতে পারে।
বয়সের সঙ্গে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু তেলের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা, পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। নিয়মিত যত্ন চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।






