নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ইরানের সাথে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল শিব সীমান্ত ক্রসিং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরাক কর্তৃপক্ষ। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মাইসান প্রদেশে অবস্থিত এই সীমান্ত পয়েন্টটি দিয়ে সাধারণ যাত্রী পারাপার, দূরপাল্লার যানবাহন এবং বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত করে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, ইরাকি সীমান্ত সীমান্ত পারাপারে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতেই মূলত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল জাইদির নির্দেশে সীমান্তটিতে সকল প্রকার আন্তর্জাতিক চলাচল বন্ধের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়। প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, কেবল আল শিব ক্রসিংই নয়, বরং ইরান-ইরাক সীমান্তের অন্যান্য সীমান্ত ক্রসিংগুলোর কার্যক্রমও ধাপে ধাপে স্থগিত করার পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে দেশটির সরকার। তবে ঠিক কতগুলো সীমান্ত ক্রসিং এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসতে পারে কিংবা অন্য ক্রসিংগুলো বন্ধের সুনির্দিষ্ট সময়সূচী কী হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কোনো তথ্য এখনও জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে ইরাক ও ইরান মোট ছয়টি প্রধান সীমান্ত ক্রসিংয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানোর লক্ষ্যে ইরাক সরকারের সার্বিক তৎপরতার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। বিশেষ করে বাণিজ্যিক ট্রাকগুলোর চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ, মালামাল পরিদর্শন প্রক্রিয়া সুসংহতকরণ এবং নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে ইরাকি কর্তৃপক্ষ তাদের নজরদারি বাড়িয়েছে। এর আগেও গত সেপ্টেম্বর মাসে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ক্রুটি পর্যালোচনা করার উদ্দেশ্যে আল শিব, আল শালামচেহ এবং আল মুনথিরিয়াসহ ইরানের সাথে থাকা কয়েকটি সীমান্ত ক্রসিং সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল ইরাকি কর্তৃপক্ষ।
মাইসান প্রদেশে অবস্থিত আল শিব ক্রসিংটি দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হঠাৎ করে এই ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি কিংবা বাণিজ্যিক স্থবিরতার মাত্রা কেমন হতে পারে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
সূত্র: আরব নিউজ






