নিজেকে সুস্থ ও ফিট মনে করতেন ২৩ বছর বয়সী সাসকিয়া রিভস-প্রিস্টলি। সপ্তাহে চার দিন ফুটবল খেলতেন গোলরক্ষক হিসেবে। কিন্তু একদিন কর্মস্থলে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। শুরু হয় বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড় করা এবং শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার অনুভূতি। পরে রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার শরীরে ভিটামিন ডি’র মাত্রা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।
যুক্তরাজ্যের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষক সাসকিয়া জানান, এর আগে নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে করতেন। কিন্তু এই ঘটনার পর বুঝতে পারেন, শরীরে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বিশেষ করে কিশোরী ও তরুণীদের মধ্যে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি বাড়ছে। দেশটির জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভিটামিন ডি’র ঘাটতিতে ভুগেছে।
ভিটামিন ডি পাওয়া যায় তৈলাক্ত মাছ, মাংস ও বিভিন্ন খাবার থেকে। তবে শরীরের অধিকাংশ ভিটামিন ডি তৈরি হয় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পড়ার মাধ্যমে। শীতকালে সূর্যের আলো কম পাওয়া, শরীরের বেশির ভাগ অংশ কাপড়ে ঢেকে রাখা এবং সানস্ক্রিন ব্যবহারের কারণে এর উৎপাদন কমে যেতে পারে। গাঢ় ত্বকের মানুষের শরীরে সমপরিমাণ ভিটামিন ডি তৈরির জন্য তুলনামূলক বেশি সূর্যালোক প্রয়োজন হয়।
চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন ডি’র ঘাটতি সহজে শনাক্ত করা যায় না। ক্লান্তি, হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা এর অন্যতম লক্ষণ। শিশুদের ক্ষেত্রে এ ঘাটতি রিকেটস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্টিওম্যালেশিয়া নামের হাড়ের রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
লিভারপুলের ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আমাকাও একই সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। রান্না করার সময় হঠাৎ তার শরীর কাঁপতে শুরু করে এবং চোখে ঝাপসা দেখতে থাকেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি ধরা পড়ে। সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পর এখন অনেকটাই সুস্থ তিনি।
যুক্তরাজ্যের চিকিৎসক ও গবেষকদের একটি দল ‘অ্যাক্ট নাউ ভিটামিন ডি’ নামে উদ্যোগ নিয়ে ঘাটতি নির্ধারণের বিদ্যমান মানদণ্ড পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে আরও বেশি মানুষের শরীরে এই ঘাটতি শনাক্ত করে আগেভাগে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্টিন হিউইসন বলেন, ভিটামিন ডি আবিষ্কারের প্রায় ১০০ বছর পরও রিকেটস রোগ নির্মূল হয়নি। তিনি খাবারে ভিটামিন ডি মেশানোর পরিধি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। কানাডা ও সুইডেনের মতো দেশে নির্দিষ্ট কিছু খাবারে ভিটামিন যুক্ত করার বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা রয়েছে।
এদিকে নিয়মিত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন সাসকিয়া। সুস্থ হয়ে আবারও ফুটবল মাঠে গোলরক্ষকের দায়িত্বে ফিরেছেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি






