পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতি বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে একসঙ্গে ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কিশোর ও তরুণদের সংখ্যাই বেশি।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতি বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মালঞ্চি ইউনিয়নের গজমতিকুন্ডা এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে শাওন (২৪), নলমুড়া এলাকার ইসমাইল মোল্লার ছেলে রব্বেল মোল্লা (২০), শাজাহান প্রামাণিকের ছেলে মিজানুর রহমান (১০), নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ (১৪), শাহাদুলের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৮) এবং ইবাদুলের ছেলে ইমন (১৪)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে বিভিন্ন এলাকা থেকে কতিপয় কিশোর ও যুবক সোনাপাতি বিলে মাছ ধরতে যান। বিকেলের দিকে হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে তারা বিলের মাঝখানে অবস্থিত পলিথিন দিয়ে ঢাকা একটি টং ঘরে (মাচাং) আশ্রয় নেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই ঘরে বিকট শব্দে বজ্রপাত ঘটলে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয় এবং তারা আশঙ্কাজনকভাবে দগ্ধ হন। একই সময়ে আরও দুজন গুরুতর আহত হয়ে সেখানে পড়ে থাকেন।
এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় ঘটনার পর বেশ কিছুক্ষণ হতাহতরা বিলের টং ঘরেই পড়েছিলেন। সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকাজে নামেন। পরে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহমেদ বাবু জানান, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে তারা পলিথিনে ঘেরা চৌকির মাচাং ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের শরীর মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই দুর্গম ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।






