ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবারের সংঘর্ষের জেরে রবিবার সকালেও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ রবিবার সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি জিয়াউল হক বকুলের পক্ষের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়নের আইড়ল বাজারে আক্তার পক্ষের এনাম ও বকুল পক্ষের রুবেলের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় রুবেল মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
এরই জেরে রবিবার সকালে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় তিন ঘণ্টার সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় ও পরে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকটি পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইছাপুরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন ও জিয়াউল হক বকুলের পক্ষের লোকজনের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বারবার সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে এলাকায় মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিবেশ শান্ত রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






