বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দের সঙ্গে নাম জড়িয়ে চলমান প্রেমের গুঞ্জন এবং তার স্ত্রী সুনীতা আহুজার সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন নবাগত অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকার। গোবিন্দ ও সুনীতার দাম্পত্যজীবনের টানাপোড়েন বা সংসার ভাঙার পেছনে তিনি দায়ী—এমন সব অভিযোগ একবাক্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী।
নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক দীর্ঘ ও ঝাঁঝালো বার্তায় কোমল রানি লেখেন, যে নারী বছরের পর বছর ধরে নিজ স্বামীকে মানসিকভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তার কোনো অভিশাপ কারও ওপর কাজ করে না। ইতিমধ্যে ভেঙে যাওয়া একটি সংসারে ঢুকে কেউ নতুন করে তা ভাঙতে পারে না। এ দেশের মানুষ এতটাও বোকা নন যে, কেউ এসে বলল ‘চিলে কান নিয়ে গেছে’ আর তারা নিজের কান না দেখেই চিলের পেছনে দৌড়াবে।
পরোক্ষভাবে সুনীতা আহুজার দিকে আঙুল তুলে কোমল প্রশ্ন তোলেন যে, একজন নারী কেন তার ব্যক্তিগত জীবনের কষ্ট দূর করার চেষ্টা না করে তা এভাবে বারবার প্রকাশ্যে প্রদর্শন করবেন। তিনি লেখেন, এই বিষয়টিকে জনসমক্ষে প্রদর্শন করে তিনি হয়তো একধরনের আনন্দ পান। এটি কি সত্যিই কোনো বেদনা, নাকি এটি একটি সূক্ষ্ম ও সুপরিকল্পিত গভীর ষড়যন্ত্র? একজন পুরুষকে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে নির্যাতন করা, তাকে কাজ করা থেকে বিরত রাখা, ঘরে বসিয়ে রেখে অলস বানিয়ে দেওয়া, তাকে পুরোপুরি একঘরে করে দেওয়া এবং মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়াই কি তবে উদ্দেশ্যে?
নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে এই অভিনেত্রী আরও লেখেন, কোনো ভালো এবং পতিব্রতা স্ত্রী তার স্বামীর সঙ্গে এমন ভয়াবহ আচরণ করতে পারেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। এই ধরনের নারীরা কি মানসিকভাবে অসুস্থ, নাকি তারা নিজেদের স্বার্থে অতিরিক্ত চতুর? তারা খুব ভালো করেই জানেন যে চার দেয়ালের ভেতরে যে উদ্দেশ্য হাসিল করা সম্ভব হয়নি, তা জনসমক্ষে এসে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি কুড়িয়ে সহজেই অর্জন করা সম্ভব।
সুনীতা আহুজাকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে কোমল স্পষ্ট জানান, নিজের কোনো সুনির্দিষ্ট অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য যেন আর কখনোই তার নাম ব্যবহার করা না হয়। লেখার শেষাংশে তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তা যেন প্রতিটি ভদ্র ও ভালো পুরুষকে এই ধরনের চতুর নারীদের হাত থেকে রক্ষা করেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে মুম্বাই বিমানবন্দরে অভিনেতা গোবিন্দ এবং তার ‘রূপা’ চলচ্চিত্রের সহশিল্পী কোমল রানি স্বর্ণকারকে একসঙ্গে দেখার পর থেকেই তাদের সম্পর্কের গুঞ্জন নতুন করে চাউর হয়। এরপর থেকে তারা একাধিক অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে একত্রে উপস্থিত হন, যার মধ্যে সম্প্রতি মুম্বাইয়ের বিখ্যাত ‘লালবাগচা রাজা’ পূজা প্যান্ডেল দর্শনও অন্যতম ছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া গোবিন্দ ও সুনীতা আহুজা দম্পতির টিনা আহুজা নামে এক মেয়ে এবং যশবর্ধন আহুজা নামে এক ছেলে রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি






