কানাডা থেকে আমদানি করা কিছু পণ্যের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শুল্কের আওতা থেকে কিছু পণ্য বাদ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে আরও ১০০ ধরনের পণ্যকে এই শুল্কের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে এ পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে নেওয়া এ সিদ্ধান্তে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, কানাডার কিছু পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের আওতা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাতলা কাঠের পাত, কিছু কাগজজাত পণ্য, কৃষিযন্ত্র, শীতলীকরণ ও হিমায়ন সরঞ্জাম, প্যাকেট ও বাক্স তৈরির উপকরণ এবং সামুদ্রিক শৈবালজাত পণ্য। অন্যদিকে, নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে কার্পেট, রং, শ্যাম্পু, কোকো গুঁড়া, বর্জ্যজাত পণ্য, কাঠের কফিন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও কিছু অন্যান্য পণ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের তালিকা থেকে ২২টি পণ্য বাদ দেওয়া হলেও নতুন করে ১০০ ধরনের পণ্য যুক্ত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুসারে, আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে পরিবর্তনগুলো কার্যকর হবে। এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো–কানাডা বাণিজ্যচুক্তির আওতাভুক্ত পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, ব্যবসায়িক ব্যয় এবং শুল্কনীতির প্রভাব রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কানাডার সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব বেশি হওয়ায় শুল্কের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
মেইন অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স কানাডার কিছু পণ্যে শুল্কছাড়ের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, কানাডা থেকে আমদানি করা বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি ও মোড়কজাতকরণের উপকরণ স্থানীয় কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সরবরাহকারীদের কাছ থেকে এসব পণ্য না পাওয়া গেলে বিকল্প সংগ্রহে ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। শুল্কছাড়ের ফলে মেইনের ব্লুবেরি, আলু, আপেল ও সামুদ্রিক শৈবাল উৎপাদন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতে পারেন।
তবে ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটর পদপ্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন ট্রাম্পের শুল্কনীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই বাণিজ্যনীতি স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। ফলে শুল্কছাড়ের সিদ্ধান্তটি নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এর জবাবে সেপ্টেম্বর মাসে কানাডাও প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। এর ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ী, উৎপাদক ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
কানাডার বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঁ বলেছেন, তার সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শুল্ক পরিবর্তনের প্রভাব পর্যালোচনা করছে। কানাডা এমন একটি বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে, যা উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে শুল্কের চূড়ান্ত ব্যয় কে বহন করবে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত শুল্কের ব্যয় ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দিলে পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আবার বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের ব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে কোন পণ্যের দাম কতটা পরিবর্তিত হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।






