বর্তমান সময়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনের কারণে ঘাড় ও মেরুদণ্ডের বিভিন্ন সমস্যা বাড়ছে। এসব অভ্যাসের পাশাপাশি ঘুমানোর ভঙ্গিও মেরুদণ্ডের সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে চিত হয়ে নাকি কাত হয়ে ঘুমানো ভালো, তা জানা জরুরি।
কোন ভঙ্গিতে ঘুমানো ভালো?
চিকিৎসকদের মতে, কাত হয়ে ও চিত হয়ে—দুই ভঙ্গিতেই ঘুমানো মেরুদণ্ডের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তির অভ্যাস, স্বাচ্ছন্দ্য ও আগে থেকে থাকা শারীরিক সমস্যার ওপর নির্ভর করে ঘুমানোর উপযুক্ত ভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে।
কাত হয়ে ঘুমানো
যাদের আগে থেকেই মেরুদণ্ডের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য কাত হয়ে ঘুমানো তুলনামূলক আরামদায়ক হতে পারে। বিশেষ করে কোমরের ডিস্কের সমস্যা বা স্পাইনাল স্টেনোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এভাবে শুলে স্বস্তি পেতে পারেন।
চিকিৎসকরা জানান, কাত হয়ে শোয়ার সময় মেরুদণ্ড কিছুটা বাকানো অবস্থায় থাকে। এতে স্নায়ুর চলাচলের জায়গা তুলনামূলক উন্মুক্ত হতে পারে, যা কিছু রোগীর ব্যথা ও অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করে।
চিত হয়ে ঘুমালে যা খেয়াল রাখবেন
চিত হয়ে ঘুমাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলে হাঁটুর নিচে একটি বালিশ রাখা যেতে পারে। এতে অনেকের শোয়ার ভঙ্গি আরামদায়ক হয় এবং কোমরের ওপর চাপ কমতে পারে।
ঘুমানোর ভঙ্গি পরিবর্তনে সতর্কতা
ঘুমের মধ্যে পাশ পরিবর্তন করার সময় হঠাৎ কোমর বা পিঠ মোচড়ানো উচিত নয়। আগে থেকে মেরুদণ্ডে ব্যথা থাকলে এতে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ, কাঁধ ও নিতম্ব একই সঙ্গে ঘুরিয়ে শরীরের অবস্থান পরিবর্তন করা ভালো। এতে মেরুদণ্ড সোজা রাখা সহজ হয় এবং অপ্রয়োজনীয় চাপ এড়ানো যায়।
সব মিলিয়ে, মেরুদণ্ড সুস্থ রাখতে নির্দিষ্ট একটি ঘুমের ভঙ্গির চেয়ে পর্যাপ্ত ঘুম, আরামদায়ক অবস্থান এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী উপযুক্ত ভঙ্গি বেছে নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস






