মেসির ব্যালন ডি’অর জেতার সম্ভাবনা কত শতাংশ?

২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময়কালের পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হবে ব্যালন ডি’অরের জন্য। বিশ্ব ফুটবলে সেরা একক সম্মানের এই পুরস্কারে স্বভাবতই ক্লাব মৌসুমের পাশাপাশি বড় প্রভাব ফেলবে বিশ্বকাপ। আর ঠিক এখানেই তৈরি হয়েছে মূল জট!
কারণ, ক্লাব ফুটবলে যারা দ্যুতি ছড়িয়েছেন, বিশ্বকাপে তারা ছিলেন ফিকে। আবার বিশ্বকাপে যারা আলো ছড়িয়েছেন, ক্লাবে তাদের পারফরম্যান্স ছিল নিম্নমুখী। তাছাড়া ব্যালনের জন্য মনোনীতদের থেকে সেরা বাছাই নির্বাচনে ১০০ আন্তর্জাতিক সংবাদিকের ভোটও বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে। তাদের প্রদত্ত পয়েন্টেই নির্ধারিত হবে কে উঁচিয়ে ধরবেন বছরের সেরা ফুটবলারের এই কাঙ্ক্ষিত ট্রফি।

এখন দেখার বিষয় ব্যালন জয়ে কার পাল্লা কতটুকু ভারী?

খবর অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপের চুক্তিতে ব্যালন ডি’অর জিতলে ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর বোনাস পাওয়ার ধারা রয়েছে। তাই তিনি প্রকাশ্যে নিজের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আর তার দাবির পক্ষে শক্তিশালী পরিসংখ্যানও আছে। গত মৌসুমে রিয়ালের হয়ে ৪৪ ম্যাচে এমবাপ্পে করেছেন ৪২ গোল, সঙ্গে করিয়েছেন আরও ৭টি। বিশ্বকাপ ও তার আগে অনুষ্ঠিত পাঁচটি আন্তর্জাতিক বিরতিতে ফ্রান্সের হয়ে তিনি করেছেন ১৬ গোল। সব মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৫৮-তে, যা ইউরোপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ—ম্যানচেস্টার সিটি ও নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের সমান।
রিয়ালের হয়ে সবচেয়ে বড় ম্যাচগুলোর বেশির ভাগেও এমবাপে নিজের ছাপ রেখেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দুই লেগেই গোল করেছেন। লা লিগায় বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষেও গোল করেছেন। শেষ পর্যন্ত দুই প্রতিযোগিতাতেই সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তবে এটাও বলা ন্যায্য যে তিনি অতিরিক্তভাবে নিজের গোলের দিকে মনোযোগী ছিলেন।

পেছনে ফিরে রক্ষণে সহায়তা করতে তার অনীহার কারণে রিয়াল প্রায়ই রক্ষণ থেকে আক্রমণে রূপান্তরের সময় বিপদে পড়েছে। অভিষেক মৌসুমের মতো এবারও তিনি বাঁ দিকে সরে গিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জায়গা দখল করেছেন। ফলে পেনাল্টি এলাকায় রিয়াল মাদ্রিদ একজন নির্দিষ্ট আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে হারিয়েছে।

বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জন্য এমবাপের চেয়ে আর্জেন্টিনার জন্য মেসি গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন বেশি। আর এই গুণই তাকে আটটি ব্যালন ডি’অর এনে দিয়েছে। এমনকি বলা যায়, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বছরই তার এই পুরস্কার জেতা উচিত ছিল। কারণ মাঠে আর্জেন্টিনার এই জাদুকরের সামগ্রিক প্রভাবের ধারেকাছেও কেউ যেতে পারেনি।
আগামী মাসে রেকর্ড বাড়িয়ে নবম ব্যালন জিতলে সেটি হবে বড় চমক। কারণ পুরস্কারের জন্য ভোট দেওয়া প্যানেল ইউরোপের বাইরে ক্লাব ফুটবল খেলার কারণে তাকে পিছিয়ে রাখবে। ব্যালন ডি’অরের বিবেচ্য সময়কালে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাত্র ৩০ ম্যাচে মেসির ৫২ গোল ও সহায়তার অবিশ্বাস্য সম্মিলিত সংখ্যা খুব একটা গুরুত্ব পাবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লিগকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা, বুন্দেসলিগা, সিরি আ ও লিগ ওয়ানের চেয়ে নিচে মনে করা হয়।

তবে বিশ্বকাপে মেসি প্রমাণ করেছেন যে তিনি এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করতে পারেন। রদ্রি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন, কিন্তু সেটি আর্জেন্টিনার অধিনায়কের পাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন অনেকেই। কারণ তিনি তার দেশকে টানা দ্বিতীয় ফাইনালে নিয়ে গেছেন। তার আটটি গোলের অন্তত তিনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলা যায়। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত সমতাসূচক গোলটি। আর শেষ চারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে তার পারফরম্যান্স ছিল মন্ত্রমুগ্ধ করার মতো। মেসির বয়স এখন ৩৯ হলেও এমবাপের সামগ্রিক খেলা তার সঙ্গে তুলনীয় নয়। এমবাপেকে ছাড়াও ফ্রান্স সম্ভবত সেমিফাইনালে উঠতে পারত, কিন্তু মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনা পুরোপুরি দিশেহারা হয়ে পড়ত।
হ্যারি কেইনও এমবাপের চেয়ে এগিয়ে—শুধু গোলের দিক থেকে নয়। বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ ৯ নম্বর খেলোয়াড় আক্রমণ তৈরির সময় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং বিভিন্নভাবে প্রতিপক্ষ শিবিরে আঘাত হানার সামর্থ্য রাখেন তিনি। বিপরীতে এমবাপে তার দুর্দান্ত গতির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। রক্ষণভাগের পেছনে জায়গায় ঢুকে পড়ার ক্ষেত্রে তার চেয়ে ভালো কেউ নেই, কিন্তু নিচে নেমে রক্ষণ করা দলগুলোর বিপক্ষে বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে শট নেওয়ার তার চেনা কৌশল ভালো রক্ষণভাগ সহজেই ঠেকিয়ে দিতে পারে।

এদিকে ওসমান দেম্বেলে গতবারের বিজয়ী হিসেবে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ, লিগ ওয়ান, সুপার কাপসহ সম্ভাব্য প্রায় সবই জিতেছেন। নকআউট স্টেজেও ছিলেন দুর্দান্ত। বিশ্বকাপে ৬ গোল করলেও নকআউট পর্বে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।

  • Related Posts

    ফরজ ইবাদত নামাজ

    নামাজ একটি ফরজ ইবাদত। একে প্রধান ইবাদত বললেও অত্যুক্তি হবে না। ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো নামাজ। ইমানের পরই যার অবস্থান। কেয়ামতের দিন আল্লাহ বান্দার…

    ঠান্ডা লাগলে হঠাৎ কণ্ঠস্বর কেন বদলে যায় ?

    সকালে ঘুম থেকে উঠে কথা বলতে গিয়ে মনে হয়, আমার গলার স্বর স্বাভাবিক না। আওয়াজ যেন হারিয়ে গেছে। এটা শুধু আমার না, এরকম কণ্ঠস্বর অনেকেরই হয়। কারও হয়ে যায় কর্কশ,…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    শীতে বাড়তে পারে কিডনির ঝুঁকি,মেনে চলুন নিয়ম

    শীতে বাড়তে পারে কিডনির ঝুঁকি,মেনে চলুন নিয়ম

    ফরজ ইবাদত নামাজ

    ফরজ ইবাদত নামাজ

    ঠান্ডা লাগলে হঠাৎ কণ্ঠস্বর কেন বদলে যায় ?

    ঠান্ডা লাগলে হঠাৎ কণ্ঠস্বর কেন বদলে যায় ?

    শ্রমিক আন্দোলনে ৮০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

    শ্রমিক আন্দোলনে ৮০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

    অক্টোবরে রেমিট্যান্স এলো ২৮৭ কোটি ডলার

    অক্টোবরে রেমিট্যান্স এলো ২৮৭ কোটি ডলার

    ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর

    ছেলেকে নিয়ে হ্যালোইন উৎসবে শাবনূর