কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিন পথে পর্যটকবাহী তিনটি জাহাজ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হলেও প্রথম যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
বুধবার রাত ৮টার আগে জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, অনলাইনে এরই মধ্যে ৭০০টির বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। কিন্তু জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও হাতে পাননি তারা।
অন্যদিকে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম রাত ৮টায় বলেন, বৃহস্পতিবার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে কোনো জাহাজ ছেড়ে যাবে না। খবর বিডিনিউজের।
টিকিট বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন কথা বলে পেছানোর ব্যবস্থা করব এবং পরবর্তী ব্যবস্থা করব। বৃহস্পতিবার একটি সভা হবে। তারপর জানাতে পারব কবে থেকে জাহাজ চলবে।’
তবে এমভি টেকনাফের ব্যবস্থাপক আকতার নূর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, বৃহস্পতিবার থেকে তাদের জাহাজের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। প্রথম যাত্রা হবে ৬ নভেম্বর।
তিন জাহাজের অনুমোদন
নৌপরিবহন অধিদপ্তর ৩ নভেম্বর সেন্টমার্টিনের পথে চলাচলের জন্য তিনটি জাহাজের অনুকূলে সাময়িক ভয়েজ লাইসেন্স দিয়েছে। জাহাজগুলো হলো এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও এমভি টেকনাফ।
এরপর ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জাহাজগুলোর রুট পারমিট ও চলাচলের সময়সূচি অনুমোদন করে। অনুমোদন অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর থেকে জাহাজগুলোর চলাচলের কথা।
তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। সরকারের নির্ধারিত দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক প্রবেশের সীমার মধ্যে এই সংখ্যা।
অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছাড়ার কথা।
ফেরার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে দুপুর ২টা ১৫ মিনিট, দুপুর ২টা ৩০ মিনিট এবং বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট।
টিকিট বিক্রি ও যাত্রা নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য
জাহাজ মালিকদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়নি। অলরেডি অনলাইনে ৭০০ এর অধিক টিকিট কাটা হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও আমরা ক্লিয়ারেন্স পাই নাই।’
অন্যদিকে, এমভি টেকনাফের ব্যবস্থাপক আকতার নূর এক বার্তায় বলেন, ‘আমাদের টানা অক্লান্ত পরিশ্রমের সুফল শুরু হলো। আজ থেকেই টিকিট কাটা যাবে এমভি টেকনাফের। কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত শুরু হলো অবশেষে।”
তিনি জানান, এমভি টেকনাফের প্রথম যাত্রা হবে ৬ নভেম্বর।
জেলা প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার জাহাজ চলবে না। জাহাজ মালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
যাত্রীদের জন্য ট্রাভেল পাস বাধ্যতামূলক
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করতে হবে।
ট্রাভেল পাস ছাড়া টিকিট ইস্যু করা যাবে না। কিউআর কোডবিহীন টিকিট গ্রহণযোগ্য হবে না বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো জাহাজ কোম্পানি একবারে ১৫ দিনের বেশি সময়ের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করতে পারবে না।
পরিবেশ রক্ষায় যেসব বিধিনিষেধ
সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু বিধিনিষেধও আরোপ করেছে সরকার।
নির্দেশনা অনুযায়ী, চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের চামচ, স্ট্র, শ্যাম্পু-সাবানের ছোট প্যাকেট এবং ৫০০ ও ১ হাজার মিলিলিটারের প্লাস্টিকের পানির বোতল দ্বীপে নেওয়া যাবে না। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।
রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ করা ও বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ। সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চালানো, কেয়াবনে প্রবেশ এবং প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, কচ্ছপসহ সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি করাও নিষেধ।
জাহাজ থেকে সাগরে উড়ন্ত পাখিদের খাবার দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাহাজে পর্যাপ্ত বর্জ্য রাখার ব্যবস্থা ও বর্জ্য পরিশোধনব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়ার কোর এলাকায় জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে না।
আবহাওয়া প্রতিকূল হলে কিংবা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর বা তার বেশি স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি থাকলে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। মিয়ানমার সীমান্তের পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যেকোনো সময় নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে।
সেন্ট মার্টিনে পর্যটন মৌসুম ১ নভেম্বর শুরু হয়ে চলার কথা ১৫ মার্চ পর্যন্ত। তবে মৌসুম শুরুর পরও জাহাজ চলাচল নিয়ে প্রশাসন ও জাহাজ মালিকদের বক্তব্যে যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে, তাতে পর্যটকদের যাত্রার তারিখ নিশ্চিত হতে আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে।






