থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যে সমস্যা হলে ক্লান্তি, হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, মেজাজের পরিবর্তন ও চুল পড়ার মতো নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, আয়োডিন ও সেলেনিয়ামসমৃদ্ধ কিছু মাছ খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
থাইরয়েড হরমোন ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন বা টি-৩ এবং থাইরক্সিন বা টি-৪ তৈরিতে আয়োডিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, সেলেনিয়াম থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। আর মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তাই এসব পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ মাছ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী হতে পারে।
ভেটকি মাছ
ভেটকি মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও সেলেনিয়াম রয়েছে। সেলেনিয়াম থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া ভেটকিতে থাকা জিঙ্কও শরীরের বিভিন্ন হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
পাবদা মাছ
হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে। পাবদার মতো তুলনামূলক সহজপাচ্য মাছ এ সময় খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এতে আয়োডিন ও সেলেনিয়ামের মতো খনিজ উপাদানও রয়েছে, যা থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয়।
বাটা মাছ
বাটা মাছে আয়োডিন পাওয়া যায়। থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে আয়োডিন অপরিহার্য একটি উপাদান। শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি হলে থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে বাটা মাছ খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
ট্যাংরা মাছ
থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে প্রয়োজনীয় আয়োডিন ও সেলেনিয়ামের উৎস হিসেবে ট্যাংরা মাছও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া এতে ভিটামিন ডি-সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ইলিশ মাছ
ইলিশে ওমেগা-৩ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড ও সেলেনিয়াম রয়েছে। সেলেনিয়াম থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ইলিশের ওমেগা-৩ শরীরে প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
তবে শুধু নির্দিষ্ট মাছ খেলেই থাইরয়েড রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এমন নয়। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে অতিরিক্ত আয়োডিন গ্রহণও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করতে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।







