ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং আগের কর্মসূচিতে পুলিশের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাবও দিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার দিল্লি পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নূপুর প্রসাদ জানান, আগামী ১০ অক্টোবরের কর্মসূচির জন্য গত ৭ অক্টোবর আবেদন জমা দিয়েছিল সংগঠনটি। অথচ পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী, যন্তর মন্তরের মতো নির্দিষ্ট এলাকায় বিক্ষোভ বা জনসভার অনুমতি পেতে অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করতে হয়। এ কারণে অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর পিটিআই ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি ও কয়েকটি ছাত্রসংগঠন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা নির্ভুল করতেই এই সংশোধন করা হচ্ছে।পুলিশ জানিয়েছে, আগের কয়েকটি কর্মসূচিতে আয়োজকেরা নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশনা মানেননি। অনুমতি ছাড়া জমায়েত কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নয়াদিল্লি জেলায় নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশও জারি রয়েছে।
বিক্ষোভ ঘিরে যাতায়াতেও বিধিনিষেধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুলিশের প্রস্তাব অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা এবং কিছু স্টেশনে ট্রেন চলাচলের ব্যবধান বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাত্রীদের চলাচলে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।নির্বাচনী তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধী দল, ছাত্রসংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ গত কয়েক দিন ধরেই চলছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং যাদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ পড়েছে, তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাদের প্রধান দায়িত্ব।এ অবস্থায় শনিবারের কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ও যাতায়াত পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে। পুলিশের অনুমতি না থাকলেও আয়োজকেরা কর্মসূচি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।






