রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটন সড়কে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন আশ্বাস দিলেও দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে এ কর্মসূচি শুরু করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের জারি করা নিষেধাজ্ঞাও বহাল রয়েছে।
অবরোধের কারণে দীঘিনালা-বাঘাইহাট-সাজেক সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অবরোধের সমর্থনে দীঘিনালা-বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের উজোবাজার, মাচালং ও টাগলকছড়াসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন আন্দোলনকারীরা। তবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন ও সংবাদকর্মীদের গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। অবরোধ চলাকালে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সরিয়ে নেওয়া ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সংগঠন দুটির ডাকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে ওই দিন বিকালে ৪৮ ঘণ্টার জন্য সড়কের ব্যারিকেড তুলে নেওয়া হয়।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এ কারণে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আবারও অবরোধ শুরু করা হয়েছে বলে জানান সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সাজেকের কয়েকটি স্থানে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অবস্থান ও তৎপরতা রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে বলেও জানান তারা।
এদিকে, রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে গত ১১ অক্টোবর এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে ওই দিন সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।






