পানি পানের জন্য প্লাস্টিকের বোতলের বদলে তামা বা স্টিলের বোতল বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। কেউ তামার বোতলের স্বাস্থ্যগুণে আস্থা রাখেন, আবার কেউ নিরাপদ ও টেকসই ব্যবহারের জন্য স্টিলের বোতল পছন্দ করেন। তবে স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপযোগী? তামার পানির কথিত উপকারিতার কতটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত, আর স্টিলের বোতলই বা কতটা নিরাপদ? বোতল কেনার আগে জেনে নেওয়া যাক, এ দুই ধরনের বোতলের সুবিধা ও সতর্কতার দিকগুলো।
তামার বোতলের উপকারিতা
তামার বোতলের পানিকে বলা হয় ‘তাম্রজল’। সারারাত তামার বোতলে পানি রাখলে তামার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ পানি মিশে যায়। তামা পেটের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মেরে হজম ভালো করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর তামার পানি, ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। তামার পাত্রে রাখা পানি খেলে কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বক ও চুল ভালো থাকে। প্রদাহ কমানোর ক্ষমতা থাকায় এই পানি অস্থিসন্ধির ব্যথা কমায়।
তবে তামার বোতলে ৮-১২ ঘণ্টার বেশি পানি রাখা ঠিক নয়। আবার দিনে ২-৩ বারের বেশি তামার পানি খাওয়াও উচিত নয়। অতিরিক্ত তামা শরীরে গেলে বমি, পেট ব্যথা বা লিভারের সমস্যা হতে পারে। লেবু, টক জাতীয় কিছু তামার বোতলে রাখা একদম নিষিদ্ধ।
স্টিলের বোতলের উপকারিতা
স্টিল হল সবচেয়ে নিরাপদ এবং নিরপেক্ষ। স্টিল পানির সঙ্গে কোনও বিক্রিয়া করে না। পানির স্বাদ বা গুণ বদলায় না। এই ধরনের বোতল পড়ে গেলেও ভাঙে না, মরচে ধরে না। সহজে পরিষ্কার করা যায়। ডাবল-ওয়াল স্টিলের বোতলে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পানি গরম বা ঠান্ডা থাকে।
তাহলে কোনটা কিনবেন?
যদি আপনি আয়ুর্বেদিক উপকার পেতে চান, তাহলে সকালে খালি পেটে এক বোতল তামার পানি খেতে পারেন। সারারাত বোতলে পানি রেখে সকালে খান। আর যদি আপনি সারাদিনের জন্য, অফিস বা জিমের জন্য একটি বোতল খুঁজছেন যেখানে বারবার পানি ভরতে হয় এবং কোনও ঝুঁকি ছাড়া পানি খেতে হয়, তাহলে স্টিল ব্যবহার করতে পারেন।
সূত্র: এশিয়াননেটনিউজ







