আকুল প্রার্থনা আর কান্নায় মর্ত্যলোক ছেড়ে স্বামীগৃহ কৈলাসে পাড়ি জমালেন জগতের মঙ্গলদায়ী দেবী দুর্গা। দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার সকাল ৯টার দিকে পুরোহিতের পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেবীর দর্পণ বিসর্জন দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে সমাপন ঘটলো পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের।
এদিকে জগতজননী দেবী দুর্গার বিদায়বেলায় মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের চোখে-মুখে ছিল বিষাদের গভীর ছাপ। ঢাকের করুণ সুর, উলুধ্বনি আর শঙ্খনাদের মধ্য দিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানানো হয় মাকে। তবে বিষাদের এই আবহের মাঝেও সনাতন ধর্মাবলম্বী সধবা রমণীরা মেতে ওঠেন ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায়। দেবীর পায়ে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর একে অপরের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিয়ে কোলাকুলি ও মিষ্টি মুখে মেতে ওঠেন তারা। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মঙ্গলের বিজয়ের আনন্দে বিষাদ ভুলে হাসিমুখে আগামী বছরের প্রতীক্ষার প্রহর গোনা শুরু করেছেন ভক্তরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দাসপাড়া, রাম ঠাকুর ক্লাব, গগন সাহারবাড়ী রোড সার্ব্বজনীন পূজা মণ্ডপ, পুষ্পাঞ্জলি সংসদ, টাউন সর্বজনীন পূজা কমিটি এবং ঐক্যতান যুব সংঘসহ বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায় সিঁদুর খেলার এমন চিরচেনা উৎসবমুখর দৃশ্য।
গগন সাহারবাড়ী রোড সার্ব্বজনীন পূজা মণ্ডপে সিঁদুর খেলায় অংশ নেওয়া সাথী বণিক বলেন, মাকে প্রণাম জানিয়ে প্রার্থনা করেছি, মা যেন আগামী বছর আবারো সুখ ও শান্তির বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন। পাশাপাশি আমাদের নিজের পরিবার এবং দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে, সেই প্রার্থনাও করেছি।
একই মণ্ডপে দীপ্তি সাহা জানান, মা প্রতিবছরই ভক্তদের জন্য আশীর্বাদ নিয়ে আসেন। মায়ের বিদায়ের সময় বুকফাটা কান্না এলেও এই ভেবে সান্তনা পাচ্ছি যে, মা তো আগামী বছর আবারো আমাদের মাঝে আসছেন। মায়ের কাছে আশীর্বাদ নিতে আসা সুবর্ণা ভৌমিক এবং পাপিয়া দেবনাথও একই রকম আবেগ প্রকাশ করে বলেন, কত প্রস্তুতি আর অপেক্ষার পর মা মাত্র ৫ দিনের জন্য আমাদের মাঝে এসেছিলেন। তিনি যেন পুরো বছর সবাইকে স্বামী-সংসারে ও সুখে-শান্তিতে ভালো রাখেন, এটাই এবারের মিনতি।
গগন সাহারবাড়ী পূজা মণ্ডপের পুরোহিত রতন চক্রবর্তী জানান, দেবী দুর্গা অশুভ শক্তি মহিষাসুরকে পরাজিত করায় সনাতন সম্প্রদায়ের মাঝে বিজয়ের আনন্দ বিরাজ করছে। বুধবার সকালে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও দেশাচার ও চিরায়িত রীতি অনুযায়ী ভক্তরা দশমীর নানা আচার পালন করছেন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ভাঙবে মিলনমেলা।






