রক্তের গ্রুপ কি স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত? ২০২২ সালে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী নিউরোলজি-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ৬০ বছর বয়সের আগে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকির সম্পর্ক থাকতে পারে।
গবেষণায় বিশেষ করে ‘এ’ রক্তের গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জিনগত উপগোষ্ঠীর কথা উঠে এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ‘এ’ গ্রুপের সবার স্ট্রোক হবে বা অন্য রক্তের গ্রুপের মানুষের ঝুঁকি নেই।
৬ লাখ ২০ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ
আন্তর্জাতিক গবেষক দল প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার মানুষের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। গবেষণায় ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সি ব্যক্তিদের তথ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে কম বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে জিনগত বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক বোঝা যায়।
গবেষণায় দেখা যায়, ‘এ১’ রক্তের উপগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত জিন বহনকারীদের ৬০ বছরের আগে স্ট্রোকের ঝুঁকি সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, ‘ও১’ জিন বহনকারীদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ কম পাওয়া যায়।
তবে এই পরিসংখ্যান ব্যক্তির স্ট্রোক হওয়ার নিশ্চিত সম্ভাবনা বোঝায় না। এটি গবেষণায় পাওয়া আপেক্ষিক ঝুঁকির পার্থক্য। ব্যক্তিগত ঝুঁকি নির্ধারণে বয়স, শারীরিক অবস্থা, জীবনযাপন ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
৬০ বছরের পর কেন একই সম্পর্ক দেখা যায়নি?
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ‘এ’ রক্তের গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত বাড়তি ঝুঁকির প্রভাব ৬০ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে একইভাবে দেখা যায়নি। গবেষকদের ধারণা, কম বয়সে স্ট্রোকের পেছনে রক্ত জমাট বাঁধার মতো বিষয় তুলনামূলক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে, বেশি বয়সে ধমনিতে চর্বি জমে সরু হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা স্ট্রোকের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব সম্ভাব্য ব্যাখ্যা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
রক্তের গ্রুপই সব নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তের গ্রুপ স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি উপাদান হতে পারে, কিন্তু এটিই একমাত্র নির্ধারক নয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। শুধু রক্তের গ্রুপের কারণে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
গবেষণাটির ফলাফল বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কতটা প্রযোজ্য, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। তাই রক্তের গ্রুপের তথ্যকে ব্যক্তিগত ঝুঁকির চূড়ান্ত মাপকাঠি না ধরে সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়াই ভালো।
সূত্র: ফিউচারা






