ক্যানসারের কেমোথেরাপিতে যা জানা জরুরি

ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি অত্যন্ত কার্যকর হলেও এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোগীদের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন হতে পারে। সম্প্রতি ‘মাস্টারশেফ ইন্ডিয়া’র বিজয়ী ও তারকা রন্ধনশিল্পী পঙ্কজ ভাদৌরিয়া নিজের ক্যানসার চিকিৎসার অভিজ্ঞতা এবং কেমোথেরাপির কারণে শরীরে হওয়া পরিবর্তনের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন। তার এই অভিজ্ঞতা নতুন করে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সচেতনতার গুরুত্ব সামনে এনেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেমোথেরাপির ওষুধ দ্রুত বিভাজিত হওয়া ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে। তবে একই সঙ্গে চুলের গোড়া, ত্বক, মুখের ভেতরের আবরণ, অস্থিমজ্জা এবং পরিপাকতন্ত্রের মতো দ্রুত বিভাজিত হওয়া সুস্থ কোষও এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে চিকিৎসাকালীন বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

নয়াদিল্লির হোপ অনকোলজির মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের পরিচালক ডা. আমিশ ভোরা জানান, কেমোথেরাপির সময় ত্বক শুষ্ক, খসখসে, চুলকানিযুক্ত বা সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে ত্বকে র্যাশ, রঙের পরিবর্তন কিংবা নখেরও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এ সময় সময় ত্বকের যত্নে দিনে কয়েকবার সুগন্ধি-মুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। কড়া সাবানের বদলে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন, বাইরে সানস্ক্রিন লাগান, দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকবেন না, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং খুব গরম পানি দিয়ে গোসল এড়িয়ে চলুন।

ত্বকের পাশাপাশি কেমোথেরাপির আরও কিছু সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে চুল পড়ে যাওয়া বা পাতলা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, মুখে ঘা, খাবারের স্বাদ বদলে যাওয়া, সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি, সহজে রক্তপাত বা কালশিটে পড়া, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য এবং হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ অনুভূতি।

তবে চিকিৎসকদের মতে, সব রোগীর ক্ষেত্রে একই ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। ব্যবহৃত ওষুধের ধরন, ডোজ, চিকিৎসার সময়কাল, ক্যানসারের ধরন এবং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ওপর এসব পরিবর্তন নির্ভর করে। বর্তমানে আধুনিক সহায়ক চিকিৎসার মাধ্যমে বমিভাব, ব্যথা, সংক্রমণসহ অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ফর্টিস হাসপাতাল মানেসরের মেডিকেল অনকোলজিস্ট ডা. পূজা বাব্বর বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসা সবার জন্য এক রকম নয়। রোগের ধরন, পর্যায় এবং টিউমারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। এজন্য সার্জন, মেডিকেল অনকোলজিস্ট ও রেডিয়েশন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে চিকিৎসা দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, কেমোথেরাপি চলাকালে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি জ্বর, তীব্র ত্বকের র্যাশ, শ্বাসকষ্ট, অবিরাম বমি, তীব্র ডায়রিয়া, নিয়ন্ত্রণহীন ব্যথা, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

চিকিৎসকদের মতে, কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে ভয় না পেয়ে নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসককে জানানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক পরিচর্যা রোগীর জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি চিকিৎসার সফলতাও বাড়াতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

  • Related Posts

    একাদশে ভর্তি আবেদনের ফল প্রকাশ কাল

    একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল আগামীকাল (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর…

    ভ্যাপসা গরমের মধ্যে বৃষ্টি নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

    দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও হতে পারে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ। একইসঙ্গে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। মঙ্গলবার (১৫…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    একাদশে ভর্তি আবেদনের ফল প্রকাশ কাল

    একাদশে ভর্তি আবেদনের ফল প্রকাশ কাল

    ভ্যাপসা গরমের মধ্যে বৃষ্টি নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

    ভ্যাপসা গরমের মধ্যে বৃষ্টি নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

    বিসমিল্লাহর অনন্য সাতটি উপকারিতা

    বিসমিল্লাহর অনন্য সাতটি উপকারিতা

    হরমুজে পানামার জাহাজে মাইন হামলা ইরানের, যা বলল যুক্তরাষ্ট্র

    হরমুজে পানামার জাহাজে মাইন হামলা ইরানের, যা বলল যুক্তরাষ্ট্র

    ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

    ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুনের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

    আজ ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস

    আজ ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস