বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। কী খাচ্ছেন, কতটা শারীরিক পরিশ্রম করছেন কিংবা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাচ্ছেন কি না—এসব সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে সুস্থতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ৪০ বছর বয়সের পর এমন কিছু অভ্যাস রয়েছে, যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এ সময় জীবনযাপনের ধরন নতুন করে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা উচিত। এ সংক্রান্ত যে চারটি স্বাস্থ্যভুল এড়িয়ে চলা জরুরি-
‘ফ্যাড ডায়েট’ বা চরম খাদ্যাভ্যাস
দ্রুত ওজন কমানো বা স্বাস্থ্যগত লক্ষ্য অর্জনের আশায় অনেকেই কঠোর ও চরম ধরনের ডায়েট অনুসরণ করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার বাদ দিয়ে এমন ডায়েট করা উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকরা বলেন, মানুষ বছরের পর বছর খারাপভাবে খাওয়ার পর হঠাৎ ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং চরম কোনো ডায়েট বেছে নেয়। এটি কারও কারও ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে। তবে এমন খাদ্য পরিকল্পনা বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যা টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদে অনুসরণ করা সম্ভব।
অলস জীবনযাপন
বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেকের জীবনযাপন কম সক্রিয় হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় কাজের কারণে একটানা বসে থাকা, ব্যস্ততার কারণে ব্যায়ামের সময় না পাওয়া কিংবা বয়সজনিত ব্যথা-বেদনায় চলাফেরা কমিয়ে দেওয়া—এসবই সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে আমরা আরও বেশি অলস হয়ে পড়ি। কর্মক্ষেত্রে বেশি সময় বসে থাকি, দেরিতে বাড়ি ফিরি এবং সোফায় বসে থাকি। শরীরচর্চা হলো ওষুধের মতো। আমাদের শরীর নড়াচড়ার জন্য তৈরি। অ্যারোবিক ও রেজিস্ট্যান্স—দুই ধরনের ব্যায়ামই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবনের এই সময়ে আমরা পেশির ভর হারাতে শুরু করি।
ক্যানসার স্ক্রিনিং বাদ দেওয়া
৪০ বছর বয়সের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। নিয়মিত পরীক্ষা না করালে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ বা অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হওয়ার সুযোগ নষ্ট হতে পারে।
চিকিৎসকরা বলেন, তিন নম্বর হলো ক্যানসার স্ক্রিনিং বাদ দেওয়া। স্তন ক্যানসারের জন্য ম্যামোগ্রাফি, জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য প্যাপ স্মিয়ার এবং কোলন ক্যানসারের জন্য কোলোনোস্কপি করা হয়।
‘এখন আর সম্ভব নয়’-এমন মানসিকতা
অনেকেই দীর্ঘদিনের কোনো খারাপ অভ্যাস পরিবর্তন করতে গিয়ে মনে করেন, এখন আর পরিবর্তনের সুযোগ নেই। কেউ বয়স বাড়ার পর ব্যায়াম শুরু করতে ভয় পান, আবার কেউ দীর্ঘদিনের ধূমপানের কারণে তা ছাড়ার চেষ্টা করেন না। তবে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস শুরু বা পুনরায় শুরু করার জন্য কখনোই দেরি হয়ে যায় না।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেক সময় মানুষ মনে করে, দীর্ঘদিন ধরে খারাপ অভ্যাস রয়েছে, তাই এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তারা স্কুল বা কলেজে দুর্দান্ত ক্রীড়াবিদ ছিল এবং পুরোনো অভ্যাসটি অনেক বেশি প্রত্যাশা নিয়ে আবার শুরু করে। এতে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মূল কথা হলো, ইতিবাচক ও স্বাস্থ্যকর কোনো অভ্যাস শুরু বা পুনরায় শুরু করার জন্য কখনোই দেরি হয় না।






