ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের আগে পাকিস্তান শিবিরে মিলেছে স্বস্তির খবর। আঙুলের চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন বাবর আজম। নেটে তার ব্যাটিং দেখে তাকে লর্ডস টেস্টে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী দলের বোলিং কোচ উমার গুল।
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে আগামী বৃহস্পতিবার লর্ডসে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি বাবর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আঙুলে চোট পাওয়ার পর ইংল্যান্ড সফরের প্রস্তুতি ম্যাচে একই জায়গায় আবারও আঘাত পান তিনি।
তবে এবার অনুশীলনে ফিরে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই ব্যাটিং করেছেন এই তারকা ব্যাটসম্যান। উমার গুল জানান, ফাস্ট বোলার, স্পিনার ও থ্রোডাউনের বিপক্ষে পুরো একটি ব্যাটিং সেশন কাটিয়েছেন বাবর। গুল বলেন, ‘বাবর নেটে ব্যাটিং করেছে। ফাস্ট বোলার, স্পিনার ও থ্রোডাউনের মুখোমুখি হয়েছে। আজ তাকে ভালো অবস্থায় দেখা গেছে। নেটে ভালো ব্যাটিং করেছে এবং পুরো একটি ব্যাটিং সেশন করেছে। আমরা আশা করছি, পরের ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে।’
প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। দুই ইনিংসের কোনোটিতেই ২০০ রান করতে পারেনি দলটি। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ১০৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ শুরু করে সফরকারীরা। তাই বাবরের প্রত্যাবর্তন দলের ব্যাটিংয়ে বাড়তি শক্তি যোগ করতে পারে।
সাম্প্রতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও ব্যাট হাতে পাকিস্তানের সেরা ছিলেন বাবর। চার ইনিংসে দুটি ফিফটির সাহায্যে ১৯৩ রান করেন তিনি। এর মধ্যে দুই ইনিংসেই অপরাজিত ছিলেন এই ব্যাটসম্যান। ওই সিরিজের আগেই বাবরকে আবার পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়। লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরতে পারলে দেশটির মাটিতে প্রথমবার টেস্ট নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। ২০২০ সালের পর ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের নেতৃত্বে এবারই প্রথম থাকবেন বাবর।
ইংল্যান্ডের মাটিতে অবশ্য বাবরের রেকর্ডও বেশ ভালো। এখন পর্যন্ত ছয় টেস্ট ইনিংসে তিনটি ফিফটি করেছেন তিনি, ব্যাটিং গড় ৬৫.৭৫। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সব মিলিয়ে ১৪ ইনিংসে তার গড় ৫৩.৮৩। এর মধ্যে সাত ইনিংসেই ফিফটি বা সেঞ্চুরি পেয়েছেন তিনি। তবে বাবরের ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে উচ্ছ্বসিত হলেও আগের ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে যেতে রাজি নন উমার গুল। তার মতে, টেস্ট জিততে হলে দলের প্রতিটি বিভাগকেই নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে হবে।
গুল বলেন, ‘আগের ম্যাচে আমরা যে ভুলগুলো করেছি, সেগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে। টেস্ট জিততে হলে সব বিভাগেই ভালো করতে হবে। একটি বিভাগ আরেকটিকে সবসময় টেনে নিতে পারে না। এই কন্ডিশনে বোলারদের দায়িত্ব আরও বেশি। ২০ উইকেট না নিলে টেস্ট জেতা সম্ভব নয়।’
দ্বিতীয় টেস্টের আগে পাকিস্তান দলের অনুশীলনেও ছিল বাড়তি তীব্রতা। গুলের বিশ্বাস, প্রথম ম্যাচের হতাশা পেছনে ফেলে লর্ডসে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আছে তার দলের।







