পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় লাকী বেগম নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, হাসপাতালের নেওয়ার পরে ইনজেকশন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত লাকি (৩০) পিরোজপুর সদর উপজেলার নরখালী গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী। তার চার মাস বয়সী একটি শিশুসহ তিন সন্তান রয়েছে।
লাকীর ননদ সোনিয়া জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বুকে ও পেটে ব্যথা নিয়ে লাকিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। লাকিকে হাসপাতালে নেওয়ার পরে তার পাঁচ থেকে ছয়বার পাতলা পায়খানা হয়েছে বলে কর্তব্যরত চিকিৎসককে জানায় তারা। তখন লাকির ডায়রিয়া হয়নি জানিয়ে চিকিৎসক হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তির জন্য পাঠান।
সোনিয়া আরও জানায়, এরপর একটি ইনজেকশন দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যেই লাকি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনরত নার্সদের কাছে এ বিষয়ে বললেও তারা জানান লাকি ঘুমাচ্ছে। এ সময় তিনি বারবার নার্সদের লাকিকে পরীক্ষা করে দেখার অনুরোধ জানালেও এতে তারা কোন তৎপরতা দেখাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে রাত ৮টার পর শিফট পরিবর্তনের সময় দায়িত্ব নিতে আসা নার্সরা লাকিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
সোনিয়ার অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণে লাকির মৃত্যু হয়েছে।
খবর পেয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নিজাম উদ্দিন ওয়ার্ডে যান। তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর ভুল চিকিৎসা বা অবহেলা ছিল কি না, তা বলা সম্ভব হবে।
লাকির চিকিৎসা দেওয়া জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা স্বাগত হালদার বলেন, তীব্র বুকে ব্যথা নিয়ে লাকিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তখন তার শারীরিক অবস্থাও ভালো ছিল না। তিনি ইসিজিসহ কয়েকটি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তিনি জানান, ব্যথা কমানোর জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে ব্যথানাশক ইনজেকশনসহ কয়েকটি ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ওই সময় রোগীর ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করাই জরুরি ছিল বলে জানান তিনি।
এছাড়া মেডিকেল টেস্টের কোনো রিপোর্ট তিনি না পাওয়ায়, লাকীর শারীরিক অবস্থার সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো রোগনির্ণয় করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে রোগীকে প্রাথমিকভাবে যথাযথ চিকিৎসাই দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে লাকির মৃত্যুর খবরে, হাসপাতালে ছুটে আসে তার আত্মীয় স্বজনরা। সেসময় হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।






