সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক কাপ চা, কাজের ফাঁকে আরেক কাপ, বিকেলে বিস্কুটের সঙ্গে আরও এক কাপ—এভাবে দিনে কখন যে তিন-চার কাপ চা হয়ে যায়, অনেকেই তা খেয়াল করেন না। কারও কাছে চা শুধু পানীয় নয়, প্রতিদিনের অভ্যাসের অংশ। তবে প্রশ্ন হলো, দিনে কতটা চা পান করা নিরাপদ?
এর উত্তর শুধু কাপ গুনে দেওয়া যায় না। কারণ এক কাপ চায়ে কতটা ক্যাফেইন রয়েছে, তা নির্ভর করে চায়ের ধরন, পাতার পরিমাণ, কতক্ষণ চা তৈরি করা হয়েছে এবং কাপের আকারের ওপর। একই সঙ্গে একজন ব্যক্তি চা ছাড়াও কফি, কোলা বা এনার্জি ড্রিঙ্ক থেকে কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করছেন, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হয়।
দিনে কত কাপ চা?
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দিনে মোট ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন সাধারণত গুরুতর ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে এই হিসাব শুধু চায়ের জন্য নয়; সারাদিনে খাওয়া সব ক্যাফেইনযুক্ত খাবার ও পানীয় মিলিয়ে করতে হবে।
এক কাপ চায়ে ক্যাফেইনের পরিমাণ এক নয়। হালকা চায়ের তুলনায় গাঢ় চা বা বেশি সময় ধরে তৈরি করা চায়ে ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশি হতে পারে। তাই দিনে ‘তিন কাপ’ বা ‘চার কাপ’ চা পান করলেই সবার শরীরে একই পরিমাণ ক্যাফেইন যাবে—এমন নয়।
অনেক সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে দিনে তিন-চার কাপ হালকা চা সমস্যা তৈরি নাও করতে পারে। তবে এর সঙ্গে নিয়মিত কফি বা এনার্জি ড্রিঙ্ক যোগ হলে মোট ক্যাফেইনের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
বেশি চা পান করলে কী হতে পারে?
চায়ে থাকা ক্যাফেইন একটি উদ্দীপক। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে শরীরে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। অস্থিরতা, হাত কাঁপা, মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, পেটের অস্বস্তি কিংবা ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
আবার কারও শরীর ক্যাফেইনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হলে তুলনামূলক কম পরিমাণেও এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই অন্য কেউ যত কাপ চা পান করছেন, নিজের ক্ষেত্রেও একই পরিমাণ নিরাপদ হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।
রাতে চা পানে সতর্কতা
রাতের খাবারের পর এক কাপ চা অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে কিছু মানুষের ঘুম আসতে দেরি হতে পারে বা ঘুমের মান খারাপ হতে পারে।
রাতে নিয়মিত ঘুমের সমস্যা হলে সন্ধ্যার পর চা বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা অনেকের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে।
গ্যাস বা অম্বল থাকলে?
যাঁদের অম্বল বা বুকজ্বালার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চা পান অস্বস্তি বাড়াতে পারে। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কিছু মানুষের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।
চা খাওয়ার পর নিয়মিত বুকজ্বালা, পেটের অস্বস্তি বা টক ঢেঁকুরের মতো সমস্যা হলে চায়ের পরিমাণ কমিয়ে দেখা যেতে পারে। তাতেও সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন সবার নেই। মূল বিষয় হলো নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বোঝা এবং সারাদিনে মোট কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করছেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকা। এক কাপ চা উপভোগের বিষয় হতে পারে, তবে তা যেন অজান্তেই অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের অভ্যাসে পরিণত না হয়।






