পেঁয়াজের খোসার পানি কি সত্যিই চুল গজায়?

রান্নাঘরে প্রতিদিনই এমন অনেক কিছু ব্যবহার করা হয়, যা কাজ শেষে জায়গা পায় ময়লার ঝুড়িতে। পেঁয়াজের শুকনো খোসাও তেমনই একটি। তবে সম্প্রতি ফেলে দেওয়া এই খোসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে নতুন এক ঘরোয়া চুলের যত্নের প্রবণতা।

পেঁয়াজের খোসা পানিতে ফুটিয়ে তৈরি তরল দিয়ে মাথার ত্বক ও চুল ধোয়ার পরামর্শ ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ বলছেন, এতে চুল ঝলমলে হয়। আবার কারও দাবি, এটি চুল পড়া কমাতেও কার্যকর।

তবে প্রশ্ন হলো, পেঁয়াজের খোসার পানি কি সত্যিই নতুন চুল গজাতে পারে? এ ক্ষেত্রে প্রচলিত দাবি ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আলাদা করে দেখা জরুরি।

পেঁয়াজের শুকনো খোসা পানিতে ফুটিয়ে বা ভিজিয়ে যে তরল তৈরি করা হয়, সেটিই মূলত পেঁয়াজের খোসার পানি। পেঁয়াজের খোসায় বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে কুয়েরসেটিনের মতো যৌগও পাওয়া যায়। এসব উপাদানের কারণে চুল ও মাথার ত্বকের যত্নে পেঁয়াজের খোসা ব্যবহারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তবে পেঁয়াজের খোসার পানি চুল গজানোর প্রমাণিত চিকিৎসা নয়। পেঁয়াজের খোসায় সালফারযুক্ত যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকলেও এগুলো বংশগত বা হরমোনজনিত চুল পড়া বন্ধ করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।

পেঁয়াজের রস নিয়ে গবেষণা

২০০২ সালে জার্নাল অব ডার্মাটোলজি-তে প্রকাশিত একটি ছোট গবেষণায় কাঁচা পেঁয়াজের রস ব্যবহারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছিল। গবেষণাটি ছিল অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটা বা মাথার নির্দিষ্ট অংশে গোলাকারভাবে চুল উঠে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে। এতে পেঁয়াজের রস ব্যবহারকারীদের একটি অংশের চুল গজানোর ফল পাওয়া যায়।

তবে এই গবেষণাকে পেঁয়াজের খোসার পানির কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে ধরা যাবে না। কারণ কাঁচা পেঁয়াজের রস ও পেঁয়াজের খোসা ফুটিয়ে তৈরি পানি এক নয়। তাই ওই গবেষণার ফলের ভিত্তিতে পেঁয়াজের খোসার পানি চুল গজায়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

ঘরোয়া রিন্স হিসেবে ব্যবহার

কেউ ঘরোয়া চুলের রিন্স হিসেবে এটি ব্যবহার করতে চাইলে পরিষ্কার এক থেকে দুটি পেঁয়াজের শুকনো খোসা ভালোভাবে ধুয়ে দুই কাপ পানিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে পারেন। এরপর তরলটি ঠান্ডা করে ছেঁকে পরিষ্কার বোতলে রাখতে হবে।

ব্যবহারের আগে মাথার ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সমস্যা না হলে শ্যাম্পু করার পর অল্প পরিমাণে মাথার ত্বকে লাগিয়ে এক থেকে দুই মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে।

তবে এটিকে চুল পড়ার চিকিৎসা হিসেবে দেখা উচিত নয়। অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার নির্দিষ্ট অংশে টাকের মতো জায়গা তৈরি হওয়া বা দীর্ঘদিন ধরে চুল পাতলা হতে থাকলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কারণ চুল পড়ার পেছনে বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি, মাথার ত্বকের সমস্যা কিংবা অন্য শারীরিক কারণ থাকতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়াই বেশি কার্যকর।

  • Related Posts

    আজ ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস

    রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকে হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আকাশ মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে…

    সুইডেনের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

    সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে এসে জমে উঠেছে লড়াই। অধিকাংশ ভোট গণনা শেষে বামপন্থী জোট মাত্র এক আসনের ব্যবধানে ডানপন্থী জোটের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ফলে নতুন সরকার কে গঠন করবে,…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    আজ ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস

    আজ ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস

    পেঁয়াজের খোসার পানি কি সত্যিই চুল গজায়?

    পেঁয়াজের খোসার পানি কি সত্যিই চুল গজায়?

    সুইডেনের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

    সুইডেনের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

    ভুল চিকিৎসায় গরুর মৃত্যু, চিকিৎসকের কারাদণ্ড

    ভুল চিকিৎসায় গরুর মৃত্যু, চিকিৎসকের কারাদণ্ড

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ

    প্রথম টি-টোয়েন্টিতে উড়ে গেল আফগানিস্তান

    প্রথম টি-টোয়েন্টিতে উড়ে গেল আফগানিস্তান