পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় মাকড়সার মতো দেখতে একটি অস্বাভাবিক ভূগঠনের ছবি তুলেছে নাসার উপগ্রহ। ‘স্পাইডার ক্রেটার’ নামে পরিচিত গর্তটি প্রাচীন উল্কাপাতে তৈরি হয়েছিল। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এরপর কয়েকশ কোটি নয়, কয়েকশ মিলিয়ন বছরের ক্ষয়প্রক্রিয়ায় এর বর্তমান চেহারা গড়ে উঠেছে।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিম্বার্লি অঞ্চলে অবস্থিত গর্তটির ছবি তোলা হয় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। নাসা ও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার যৌথ ল্যান্ডস্যাট ৯ উপগ্রহের ‘অপারেশনাল ল্যান্ড ইমেজার’ যন্ত্র ছবিটি ধারণ করে।
উল্কার আঘাতে তৈরি পুরো কাঠামোটি ডিম্বাকৃতির। দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১১ কিলোমিটার। এর মাঝখানে মাকড়সার মতো দেখতে অংশটি প্রায় ৪ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। অর্থাৎ মাকড়সার আকৃতিটি পুরো গর্ত নয়, বরং গর্তের কেন্দ্রীয় অংশ।
ভূতাত্ত্বিকদের ধারণা, এই অস্বাভাবিক নকশা গর্তের কেন্দ্রীয় উঁচু অংশের অবশেষ। উল্কার প্রচণ্ড আঘাতের পর ভূমি আবার ওপরের দিকে উঠে এলে গর্তের তলদেশের মাঝখানে এমন উঁচু অংশ তৈরি হয়।
ছবিতে মাকড়সার পায়ের মতো ছড়িয়ে থাকা হালকা রঙের অংশগুলো আসলে বেলেপাথরের শৈলশিরা। আশপাশের অন্য শিলাস্তর দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষয়ে গেলেও এই শৈলশিরাগুলো টিকে আছে। সেই ক্ষয়প্রক্রিয়াই ভূগঠনটির মাকড়সার মতো চেহারা ফুটিয়ে তুলেছে।
কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা স্পাইডার ক্রেটারের উৎপত্তি বোঝার চেষ্টা করেছেন। প্রথম দিকে কারও কারও ধারণা ছিল, আগ্নেয়গিরির কারণে এটি তৈরি হয়েছে। তবে সরেজমিন গবেষণায় প্রাচীন উল্কার আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
এর মধ্যে রয়েছে পাখার মতো ছড়িয়ে থাকা বিশেষ ফাটল, যাকে বলা হয় ‘শ্যাটার কোন’। শক্তিশালী অভিঘাত তরঙ্গ শিলার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় এমন ফাটল তৈরি হয়। গর্তের কেন্দ্রীয় গম্বুজজুড়ে এসব চিহ্ন রয়েছে।
বেলেপাথরে পাওয়া আঘাতজনিত পরিবর্তনের চিহ্নযুক্ত কোয়ার্টজ ও জিরকন স্ফটিকও পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষাগারে এসব খনিজ বিশ্লেষণ করে উল্কাটি কোন কোণে ভূমিতে আঘাত করেছিল, তা বোঝা যেতে পারে। তবে আঘাতের সঠিক সময় এখনো অজানা।






