গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নতুন করে আবারও তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স (তরকা) শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেন তারা।
নতুন করে আক্রান্ত তিন ব্যাক্তি হলেন- উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছোহাটী গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী শাহিনুর বেগম (৩৫), মৃত ছরিতুল্লাহর ছেলে আনছার আলী (৬৪) ও আমির উদ্দীনের ছেলে জবেদ আলী (৪৫)। এ নিয়ে উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে শনাক্ত হওয়া তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর আগে উপজেলায় আরও ৩১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছিলো। নতুন করে তিনজন আক্রান্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।
অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার রোধে আক্রান্ত পশু জবাই ও মাংস বিক্রি না করা, অসুস্থ বা মৃত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান বলেন, অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছোহাটি গ্রামের ৩ জন, পূর্ব বাছোহাটি গ্রামের ২৬ জন, রামজীবন ইউনিয়নের বাজারপাড়া গ্রামের ৩ জন, দহবন্দ ইউনিয়নের বামনজল গ্রামের ১ জন ও সোনারায় ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামের ১ জনসহ মোট ৩৪ রোগী জরুরি বিভাগে এসেছিলেন। তাদের সবাইকে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কের কিছু নেই। চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হয় জানান তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে, এম, ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত ২০ হাজার পশুর ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ১৯ হাজার পশুকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। আরও ১০ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো পেয়ে যাবো। এ উপজেলায় ২ লাখ ৫৪ হাজার গবাদিপশু পশু রয়েছে।
ডা. কে. এম. ইফতেরুল ইসলাম বলেন, রিং ভ্যাকসিনেশন পদ্ধতিতে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ চলছে।







