সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। বিস্তীর্ণ বালুচর ধরে হাঁটছেন পর্যটকেরা। কেউ সমুদ্রে নেমে আনন্দে মেতেছেন, কেউ সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য। কেউবা প্রিয়জনের হাত ধরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। আর দিগন্তে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার আকর্ষণ তো আছেই।
এর সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘছুটি ও শুক্র ও শনিবার (২২ ও ২৩ অক্টোবর) দুই দিনের পর্যটন কার্নিভ্যাল। সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এ কার্নিভ্যালের আয়োজন করেছে। উৎসব উপলক্ষে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থাকছে নানা আয়োজন। আগামীকাল শুক্রবার বিকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ কার্নিভালের উদ্বোধন স্বাগত বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
কার্নিভ্যাল ঘিরে নতুন সাজে সেজেছে কুয়াকাটা। সৈকতজুড়ে বর্ণিল সাজসজ্জা, উৎসবের আমেজ আর পর্যটকদের পদচারণে বদলে গেছে চিরচেনা পরিবেশ।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ ৯ বছর পর পর্যটন কার্নিভ্যাল আয়োজনকে ঘিরে কুয়াকাটায় পর্যটকের সমাগম পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রস্তুতি শেষ করেছে। পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও।
কুয়াকাটার আকর্ষণ শুধু সমুদ্র সৈকতে সীমাবদ্ধ নয়। একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এখানকার রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবার পর্যটকদের ভ্রমণে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। রাখাইন পল্লি, মিশ্রিপাড়া, গঙ্গামতি, লেম্বুর বন, তিন নদীর মোহনা, শুঁটকিপল্লি, ঝাউবাগান ও লাল কাঁকড়ার চর—এসব স্থানেও পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। রাখাইন মার্কেট, শুঁটকি বাজার, ঝিনুক ও আচার বিক্রেতা এবং স্থানীয় খাবারের দোকানিরা বাড়তি বিক্রির আশায় প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, ‘২০ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত কুয়াকাটাতে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। যে কারণে কুয়াকাটাতে থাকা আবাসিক তিনশটির বেশি আবাসিক হোটেল হোটেলে ধারণক্ষমতা প্রায় ৫০ হাজার। তবে এর বাইরেও আমাদের আশেপাশে পাঁচটি গ্রামে প্রায় ৬০০টি পরিবারে রেডি রয়েছে বাড়তি চাপ সামলাতে। আমরা সবাই পূজার বন্ধ এবং পর্যটন কার্নিভ্যালকে কেন্দ্র করে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’
দীর্ঘ ছুটি ও কার্নিভ্যাল ঘিরে হোটেল-মোটেলগুলোতেও আগাম বুকিংয়ের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। এছাড়া পর্যটক আকৃষ্ট করতে কিছু হোটেল ভাড়ায় ৫০ শতাংশ পর্যন্তও ছাড় ঘোষণা করেছে।
কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হাসান জানান, পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ এবং থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে থাকবে। যেকোনো সমস্যায় পর্যটকদের টুরিস্ট পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিচ-ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব মো. আরিফুজ্জামান বলেন, কুয়াকাটার বিচ-কার্নিভালে স্থানীয় ও দেশ-বরেণ্য কণ্ঠ ও চলচ্চিত্রশিল্পীদের সমন্বয় দুইদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় লক্ষ লক্ষ পর্যটককের আগমন ঘটবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবারের উৎসব কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায় গতি ফেরানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।







