ফর্সা হওয়ার জন্য ক্রিম ব্যবহার করলে কি গুনাহ হবে?

সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ক্রিম, লোশন, মেকআপসহ বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করেন অনেকে। তবে এসব প্রসাধনী ব্যবহারের বিষয়ে ইসলামের বিধান কী, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। ইসলাম কি সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রসাধনী ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, নাকি তা নিষিদ্ধ?
ইসলাম পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যচর্চাকে নিরুৎসাহিত করে না। বরং বৈধ উপায়ে পরিপাটি থাকা ও সৌন্দর্য রক্ষা করাকে উৎসাহিত করে। তাই সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ক্রিম বা কসমেটিকস ব্যবহার করাই নিষিদ্ধ নয়। তবে এসব পণ্যের উপাদান, ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, আমরা খাবারের ক্ষেত্রে হালাল ও হারাম চিন্তা করি, কিন্তু অনেক প্রসাধনী আছে— যেটা হারাম উপদান দিয়ে তৈরি। আর এই প্রসাধনী ব্যবহারের পর, যদি এর উপাদান শরীরের ত্বকের ভিতর প্রবেশ করে তাহলে এটার আমাদের জন্য হারাম।
তিনি আরও বলেন, মৌলিকভাবে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রসাধনী ব্যবহার হারাম না। তবে হারাম উপদান দিয়ে তৈরি করলে সেটা ব্যবহার হারাম।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যেসব সৌন্দর্যসামগ্রী সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে?’ (সুরা আল-আরাফ, আয়াত ৩২)।
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর দেওয়া বৈধ সৌন্দর্যসামগ্রী ব্যবহারকে বিনা কারণে হারাম বলা যায় না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯১)।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, ত্বকের যত্ন নেওয়া, শুষ্কতা দূর করা, ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখা কিংবা সাজসজ্জার জন্য প্রসাধনী ব্যবহার করা মূলত জায়েজ। তবে প্রসাধনীতে নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর উপাদান থাকলে তা ব্যবহার করা বৈধ হবে না।
বিশেষ করে ফর্সা হওয়ার জন্য ব্যবহৃত ক্রিমের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। ত্বকের দাগ দূর করা বা স্বাভাবিক রং ফিরিয়ে আনার জন্য নিরাপদ পণ্য ব্যবহার করা এবং ক্ষতিকর উপাদানের মাধ্যমে ত্বকের রঙ পরিবর্তন করার বিষয়টি এক নয়। শুধু ফর্সা হওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো ক্রিম ব্যবহার করলেই তা হারাম হয়ে যায় না; বরং এর উপাদান, কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করতে হবে।

এ ছাড়া নারীদের প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার সামনে সাজসজ্জা প্রদর্শন করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পরপুরুষের সামনে সৌন্দর্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ইসলামের পর্দাসংক্রান্ত বিধান মানতে হবে।

অন্যদিকে, অজু ও গোসলের ক্ষেত্রেও প্রসাধনীর ধরন বিবেচনা করা জরুরি। কোনো ক্রিম বা প্রসাধনী ত্বকের ওপর এমন প্রলেপ তৈরি করলে, যা পানি ত্বকে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে অজু বা ফরজ গোসলের আগে সেই প্রলেপ দূর করতে হবে। তবে শুধু প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে অজু নষ্ট হয়ে যায় না।

  • Related Posts

    ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা মার্কিন দূতাবাসের

    যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। কোনো মামলায় গ্রেফতার হলে মার্কিন ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে এবারের বার্তায়। শনিবার (২৪ অক্টোবর)…

    সংবিধান সংশোধন: বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা মার্কিন দূতাবাসের

    ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা মার্কিন দূতাবাসের

    সংবিধান সংশোধন: বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

    সংবিধান সংশোধন: বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

    ফর্সা হওয়ার জন্য ক্রিম ব্যবহার করলে কি গুনাহ হবে?

    ফর্সা হওয়ার জন্য ক্রিম ব্যবহার করলে কি গুনাহ হবে?

    এক মহল্লায় তিন মেয়র প্রার্থী নিয়ে গ্যাঁড়াকলে সমর্থকরা

    এক মহল্লায় তিন মেয়র প্রার্থী নিয়ে গ্যাঁড়াকলে সমর্থকরা

    আজকের স্বর্ণের দাম

    আজকের স্বর্ণের দাম

    ১৫ নভেম্বর ফুটবলে ফিরছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো

    ১৫ নভেম্বর ফুটবলে ফিরছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো