ফুটপাতে চিতই পিঠা বিক্রি করে সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন মানিকগঞ্জের আব্দুল কাদের। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মানিকগঞ্জ বাজার ব্রিজের উত্তর পাশে ফুটপাতে বসে সারা বছর পিঠা বিক্রি করেন তিনি।
দীর্ঘদিন অভাব অনটনের মধ্যে সদর উপজেলার গোকুলনগর গ্রামে চলছিল কাদেরের সংসার। অবশেষে ২০০৯ সালে মানিকগঞ্জ শহরে পিঠার ব্যাবসা শুরু করেন কাদের। প্রথমে কম বিক্রি হলেও এখন লোকজন লাইন ধরে পিঠা কেনেন।
আব্দুল কাদের বলেন, ‘শীত মৌসুমে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয়। অন্যসময় বিক্রি হয় পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকার। শীত মৌসুমে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আয় হয়। সে হিসেবে মাসে আয় হয় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। বছরে আয় হয় প্রায় ১০ লাখ টাকা।’
কাদের দুই ধরনের পিঠা বিক্রি করেন। সাধারণ পিঠা ১০ টাকা আর ডিম পিঠা ৩০ টাকা করে বিক্রি করেন। তিনি জানান, এ পিঠা বিক্রি করে মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় জায়গা কিনে পাকা বাড়ি করেছেন তিনি। দুই মেয়ে নিয়ে তার সংসার। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছেন।
দুপুরের পর থেকে পিঠা নেওয়ার জন্য লোকজন দোকানে ভিড় করে। কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে দোকানে বসে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা দিয়ে পিঠা খাচ্ছেন। কেউ পরিবারের জন্য পার্সেল নিচ্ছেন। গরম গরম পিঠা নেওয়ার জন্য দীর্ঘসময় অপেক্ষা করছেন অনেকে।
প্রতিদিন স্বামী-স্ত্রী মিলে পিঠা তৈরি করে বিক্রি করেন। পিঠার সঙ্গে তিন রকমের ভর্তার স্বাদ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন কাদেরের দোকানে ভিড় করে।
তার মতো অনেকেই ফুটপাতে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। পাশের চায়ের দোকানদার লিটন মিয়া বলেন, ‘যতগুলো পিঠার দোকান আছে তার মধ্যে কাদেরের পিঠার মান ভালো। চাউলের গুড়ার সঙ্গে শুধু লবণ পানি মিশিয়ে চিতই পিঠা তৈরি করেন। কোনো ভেজাল নেই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থেকে পিঠা তৈরি করেন। আমরা সবসময় তার কাছ থেকে পিঠা নেই।’
ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফ হোসেন বলেন, ‘আমি দশ বছর যাবৎ এখান থেকে পিঠা নেই। আগে দুই টাকা করে দাম নিতো। তারপর পাঁচ টাকা এখন দশ টাকা। অন্যান্য জিনিসের তুলনায় দাম কমই।’







