টানা ১৩ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা। এতে তীব্র গরমের পাশাপাশি পানির তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও আইপিএস ব্যাকআপ না থাকায় অন্ধকারে ডুবে গেছে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। মোমবাতি, মোবাইল ও টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকেরা। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বন্ধ রয়েছে মোবাইল নেটওয়ার্কও।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। তীব্র গরমে ঘামে ভিজে হাঁসফাঁস করছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার কক্ষেই মোবাইলের ফ্ল্যাশ ও টর্চলাইটের আলো দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সোহেল রানা, ডা. নাদিয়া সুলতানা মিশু, ডা. মো. তাজুল ইসলাম, ডা. মালিহা তাসনিম ফাতেমা ও ডা. প্রিন্স দাস।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই সরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন। যার মধ্যে বড় একটি অংশই হামে আক্রান্ত শিশু। এছাড়া ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও ঋতুপরিবর্তনজনিত জ্বর-ঠান্ডায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে সেবা নিচ্ছেন দেড় থেকে প্রায় দুই হাজার রোগী। মূলত মৌসুমি অসুস্থতা ও ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে হঠাৎ রোগীর এ বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সায়রা বেগম ও আসমা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে চিকিৎসকেরা টর্চের আলোতেই রোগী দেখছেন। কিন্তু কম খরচে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি নুরনাহার বেগম বলেন, রাত ১টা থেকে এখন দুপুর ২টা, টানা ১৩-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালে পানিও নেই, যার কারণে টয়লেট পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। অসুস্থ শরীর নিয়ে এমন চরম ভোগান্তিতে পড়ার কথা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
চিকিৎসকেরা জানান, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তাদের কষ্ট হলেও চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। লম্বা সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আইপিএস সুবিধাও বন্ধ হয়ে গেছে, তাই অন্ধকারের মধ্যেও মোবাইল ও টর্চলাইট জ্বালিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে।
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, টানা বিদ্যুৎ না থাকায় কক্ষের ভেতরের দমবন্ধ পরিস্থিতিতে টেকাই দায় হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে গরম নিবারণের চেষ্টা করছি। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলনগর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রাশেদুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত লোডের কারণে উপজেলার একমাত্র সাব-স্টেশনের মূল তার পুড়ে গেছে। জেলা সদর থেকে কারিগরি দল এসে সকাল থেকে মেরামতের কাজ চালাচ্ছে। খুব দ্রুতই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।






