ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের চেয়ে বিরোধী জোট এগিয়ে থাকার আভাস মিলেছে। তবে একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। জরিপের এই ফলাফলে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারছে না।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল কান-১১-এর জরিপে লিকুদ পার্টি ২৫টি আসন পেতে পারে। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেতে পারে ২১টি আসন।
জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলের জরিপেই নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির এগিয়ে রয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলো একসঙ্গে সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, বিরোধী জোট ৫২ থেকে ৫৩টি আসন পেতে পারে। বিপরীতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা প্রায় ৫০।
টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিকুদ পার্টি এককভাবে এগিয়ে থাকলেও জোটের হিসাব নেতানিয়াহুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষই সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি।
নির্বাচনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো। জরিপে এসব দল সম্মিলিতভাবে ১৭ থেকে ১৮টি আসন পেতে পারে। তবে বিরোধী শিবিরের কয়েকটি দল তাদের সঙ্গে সরকার গঠনে আপত্তি জানিয়েছে। ফলে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো আসনের হিসাবে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনে রাজনৈতিক সমঝোতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জেরুজালেম পোস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর বিরোধীরা তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে একমত হলেও পরবর্তী সরকার কাদের নিয়ে গঠিত হবে, সে বিষয়ে তাদের মধ্যে জটিলতা রয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর দল সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া সরকার গঠনের পথ সহজ নয়।
বুথফেরত জরিপ চূড়ান্ত ফল নয়। ভোট গণনা শেষে আসনসংখ্যা নিশ্চিত হবে। এরপর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। সমঝোতা ব্যর্থ হলে দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্রঃ জেরুজালেম পোস্ট, টাইমস অব ইসরায়েল







