রাজশাহীর পবা উপজেলায় কৃষকের বাড়িতে নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত রাখা ১২৯ বস্তা সার জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় মামুনুন্নবী মিলন নামের এক কৃষককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে জব্দ করা সার সরকারি নির্ধারিত দামে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়।
বুধবার দুপুরে উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইবনুল আবেদীন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন।
অভিযানে মামুনুন্নবী মিলনের বাড়ির গুদাম থেকে ৪৮ বস্তা এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) ও ৮১ বস্তা টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) সার উদ্ধার করা হয়। নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত পরিমাণ সার মজুত রাখার অভিযোগে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জব্দ করা ১২৯ বস্তা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করা হয়।
অভিযানকালে ইউএনও ইবনুল আবেদীন বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পবা উপজেলায় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্র তদারকি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকের বাড়িতে নির্ধারিত পরিমাণের বেশি সার মজুত রাখা হয়েছে কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে। নিয়ম না মেনে সার মজুত রাখায় ওই কৃষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, কেউ অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা কৃষকদের হয়রানি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসনের তদারকি অব্যাহত থাকবে।
তবে কৃষক মামুনুন্নবী মিলনের দাবি, তিনি সার বিক্রির উদ্দেশ্যে নয়, নিজের জমিতে আলু চাষের জন্য সারগুলো মজুত করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতি বছর প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করি। গত বছর ৪৫ বিঘা জমিতে আলু করেছিলাম। আলু চাষের পর ৮১ বস্তা টিএসপি ও ৪৮ বস্তা এমওপি সার বেঁচে যায়। আলু চাষের সময় প্রয়োজনমতো সার পাওয়া যায় না। তাই চলতি মৌসুমের জন্য সারগুলো রেখে দিয়েছিলাম।’
অভিযানে পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক ও রায়হান উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।






