সকালের নাস্তায় তাজা কমলার জুস, ব্রাউন ব্রেড, ওটস, কলা ও মধু। শুনতে বেশ স্বাস্থ্যকরই মনে হয়। কিন্তু পুষ্টিকর বলে পরিচিত এসব খাবারের কিছু কি অজান্তেই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘স্বাস্থ্যকর খাবার’ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
বিপাকীয় চিকিৎসা ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গগনদীপ সিং বলেন, অনেক খাবারকে আমরা স্বাস্থ্যকর মনে করলেও সেগুলো রক্তে শর্করার ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা বিবেচনা করি না।
তিনি একটি রোগীর উদাহরণ দিয়ে বলেন, ওই রোগী সকালে এক গ্লাস তাজা কমলার জুস, দুই টুকরো ব্রাউন ব্রেড, এক বাটি ওটসের সঙ্গে কাটা কলা এবং চিনির পরিবর্তে এক চামচ মধু খেতেন। সবকিছু স্বাস্থ্যকর মনে হলেও তার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ছিল। চিকিৎসকের মতে, সমস্যার একটি কারণ তার নাশতার মধ্যেই ছিল।
তিনি বলেন, কমলার জুস তৈরির সময় ফলের আঁশের বড় অংশ বাদ পড়ে যায়। ফলে ফলের চিনি দ্রুত রক্তে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে পুরো কমলা খেলে আঁশ থাকায় হজম ও শর্করা শোষণের প্রক্রিয়া ধীর হয়। একই বিষয় ফলের স্মুদি বা অতিরিক্ত কলা দিয়ে তৈরি নাশতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
তিনি আরও বলেন, ব্রাউন বা মাল্টিগ্রেইন লেখা থাকলেই রুটি স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না। মিহি করে গুঁড়া করা ময়দা দিয়ে তৈরি এসব রুটিও সাদা পাউরুটির মতো রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে। ওটস, চিড়া, ও কর্নফ্লেক্স খেলে এগুলো দ্রুত হজম হওয়া শর্করা হিসেবে কাজ করতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষুধা তৈরি করতে পারে।
তবে এসব খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমাণ এবং খাবারের সঙ্গে কী যোগ করা হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন, শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে শর্করাযুক্ত খাবার খেলে খাবারটি তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
চিকিৎসক আরও বলেন, গুড়, মধু ও খেজুর প্রাকৃতিক হওয়ায় সেগুলোকে নিরাপদ চিনি মনে করা ঠিক নয়। শরীর এগুলোকে শেষ পর্যন্ত শর্করা হিসেবেই গ্রহণ করে। একইভাবে কম চর্বিযুক্ত খাবার সবসময় স্বাস্থ্যকর নয়। অনেক ক্ষেত্রে চর্বির পরিবর্তে স্বাদ বাড়াতে চিনি ও শ্বেতসার যোগ করা হয়।
তিনি জানান, চর্বিকে একমাত্র সমস্যা হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। ঘি, মাখন, পনির, ডিম ও অলিভ অয়েলের মতো খাবার সরাসরি রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায় না; বরং খাবারে প্রোটিন ও চর্বি থাকলে শর্করার বৃদ্ধি ধীর হতে পারে।
তাই চিকিৎসকের পরামর্শ, ফল জুস না করে পুরোটা খেতে হবে, প্রতিটি খাবারে প্রোটিন ও শাকসবজিকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং দ্রুত হজম হওয়া শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।






