সৌরজগতের বাইরে থাকা একটি গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীদের দাবি, কোনো এক্সোপ্ল্যানেট বা সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও নিঃসরণ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এটিই প্রথম নিশ্চিত সাফল্য।
তবে এই সংকেতের সঙ্গে ভিনগ্রহের প্রাণ বা বুদ্ধিমান সভ্যতার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। সংকেতটি এসেছে ‘বিটা পিক্টোরিস বি’ নামের একটি বিশাল গ্যাসীয় গ্রহ থেকে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে থাকা গ্রহটির ভর বৃহস্পতির প্রায় ১২ গুণ। এটি বিটা পিক্টোরিস নামের একটি তরুণ নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থাপিত মেরিক্যাট রেডিও টেলিস্কোপ অ্যারে ব্যবহার করে গবেষকেরা সংকেতটি শনাক্ত করেন। পর্যবেক্ষণে দ্রুত ও পুনরাবৃত্ত রেডিও বিস্ফোরণ ধরা পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষকেরা সংকেতের উৎসকে শুধু নক্ষত্রমণ্ডল নয়, নির্দিষ্টভাবে গ্রহটির সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, এর উৎস গ্রহটির শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র। উচ্চশক্তির বৈদ্যুতিক কণাগুলো গ্রহটির চৌম্বকক্ষেত্রের মধ্যে প্রবেশ ও ঘূর্ণনের সময় অরোরার সৃষ্টি করে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রেডিও তরঙ্গ নির্গত হয়। পৃথিবীতেও অরোরা দেখা যায়, যদিও বিটা পিক্টোরিস বি-এর ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী।
গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন, গ্রহটির চৌম্বকক্ষেত্রের শক্তি প্রায় ১ হাজার ২৫০ গস- যা বৃহস্পতির চেয়েও শক্তিশালী। শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র একটি গ্রহের বায়ুমণ্ডলকে নক্ষত্র থেকে আসা উচ্চশক্তির কণা ও বিকিরণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারে। ফলে দূরবর্তী গ্রহগুলোর চৌম্বকক্ষেত্র শনাক্ত করার এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে অপেক্ষাকৃত ছোট ও সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহ নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই আবিষ্কার এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ নয়। এটি মূলত সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহের প্রাকৃতিক রেডিও নিঃসরণ শনাক্ত করার প্রথম প্রত্যক্ষ প্রমাণ।
তথ্য সূত্র- কেসিআরএ।






