ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে অনেকেই শখ করে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগান। তবে কিছু গাছ শুধু ঘরের সাজসজ্জাই বাড়ায় না, পরীক্ষাগারে পরিচালিত গবেষণায় বাতাসে থাকা নির্দিষ্ট কিছু দূষক শোষণের সক্ষমতাও দেখা গেছে। অ্যালোভেরা, গোল্ডেন পোথস, স্পাইডার প্ল্যান্ট থেকে শুরু করে স্নেক প্ল্যান্ট—এমন বেশ কয়েকটি গাছ ঘরের ভেতরে সহজেই রাখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব গাছ ঘরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য বাড়াতে সহায়ক। তবে ঘরের বাতাস পুরোপুরি বিশুদ্ধ রাখতে শুধু গাছের ওপর নির্ভর করা যাবে না। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
ঘরের ভেতরে রাখতে পারেন এমন ১০টি গাছের পরিচিতি তুলে ধরা হলো।
১. অ্যালোভেরা
ঔষধি গুণের পাশাপাশি ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতেও অ্যালোভেরা বেশ জনপ্রিয়। পরীক্ষাগারে পরিচালিত গবেষণায় ফর্মালডিহাইড ও বেনজিনের মতো কিছু দূষক শোষণের সক্ষমতা দেখা গেছে এই গাছে। এর পরিচর্যাও বেশ সহজ। তবে অতিরিক্ত পানি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
২. গোল্ডেন পোথস
সবুজ ও হলুদাভ পাতার কারণে গোল্ডেন পোথস ঘরের সাজসজ্জায় আলাদা মাত্রা যোগ করে। কম পরিচর্যাতেই গাছটি বেড়ে ওঠে। পরীক্ষাগারে ফর্মালডিহাইড, বেনজিন ও জাইলিনের মতো দূষক শোষণের সক্ষমতা দেখা গেছে। তবে গাছটি বিড়াল ও কুকুরের জন্য বিষাক্ত হতে পারে। তাই পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখা উচিত।
৩. ইংলিশ আইভি
লতানো পাতার কারণে ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে ইংলিশ আইভি বেশ আকর্ষণীয়। পরীক্ষাগারে বাতাসের কিছু দূষক শোষণের সক্ষমতা দেখা গেছে এই গাছে। তবে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে নিয়মিত পরিচর্যা এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা প্রয়োজন।
৪. অ্যারেকা পাম
বাটারফ্লাই পাম নামেও পরিচিত অ্যারেকা পাম। লম্বা ও ঘন পাতার কারণে ঘরের ভেতরে সবুজের আবহ তৈরি করতে এই গাছ বেশ জনপ্রিয়। পরীক্ষাগারে বেনজিন ও ফর্মালডিহাইডের মতো দূষক শোষণের সক্ষমতা দেখা গেছে। আর্দ্র মাটি এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে গাছটি ভালো থাকে।
৫. স্পাইডার প্ল্যান্ট
সহজ পরিচর্যা ও আকর্ষণীয় পাতার জন্য স্পাইডার প্ল্যান্ট ঘরের গাছ হিসেবে বেশ পরিচিত। এর সরু লম্বা পাতার সঙ্গে ছোট ছোট চারা ঝুলে থাকে। পরীক্ষাগারে ফর্মালডিহাইড ও জাইলিনের মতো দূষক শোষণের সক্ষমতা পাওয়া গেছে। মাটি শুকিয়ে এলে পানি দিলেই গাছটি সতেজ থাকে।
৬. পিস লিলি
সাদা ফুল ও গাঢ় সবুজ পাতার কারণে পিস লিলি ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে বিশেষভাবে পরিচিত। তুলনামূলক কম আলোতেও গাছটি বেঁচে থাকতে পারে। পরীক্ষাগারে বেনজিন, ফর্মালডিহাইড ও জাইলিনের মতো কিছু দূষক শোষণের সক্ষমতা দেখা গেছে। তবে সরাসরি কড়া রোদে রাখা উচিত নয়। গাছটি পোষা প্রাণীর জন্যও বিষাক্ত হতে পারে।
৭. স্নেক প্ল্যান্ট
মাদার-ইন-ল’স টাং নামেও পরিচিত স্নেক প্ল্যান্ট। লম্বা ও খাড়া পাতার কারণে ঘরের সাজসজ্জায় আধুনিক আবহ তৈরি করে। কম আলোতেও টিকে থাকতে পারে এবং এর পরিচর্যাও সহজ। পরীক্ষাগারে বাতাসে থাকা কিছু উদ্বায়ী জৈব যৌগ শোষণের সক্ষমতা দেখা গেছে। তবে অতিরিক্ত পানি দেওয়া যাবে না।
৮. চাইনিজ এভারগ্রিন
ঘরের ভেতরে রাখার উপযোগী আরেকটি আকর্ষণীয় গাছ চাইনিজ এভারগ্রিন। এর পাতায় সবুজের পাশাপাশি রুপালি বা লালচে নকশা দেখা যায়। কম আলোতেও বেড়ে উঠতে পারে বলে ঘরের বিভিন্ন স্থানে রাখা যায়। পরীক্ষাগারে বাতাসের কিছু দূষক শোষণের সম্ভাবনাও দেখা গেছে। তবে গাছটি পোষা প্রাণীর জন্য বিষাক্ত হতে পারে।
৯. ড্রাসিনা
লম্বা পাতা ও আকর্ষণীয় গড়নের কারণে ড্রাসিনা ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়। এর বিভিন্ন প্রজাতি ঘরের ভেতরে চাষ করা যায়। পরীক্ষাগারে ফর্মালডিহাইড ও বেনজিনের মতো দূষক শোষণের সক্ষমতা পাওয়া গেছে। উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলোতে গাছটি ভালো থাকে। তবে পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখা উচিত।
১০. বোস্টন ফার্ন
ঘরের পরিবেশে সবুজের সমারোহ বাড়াতে বোস্টন ফার্ন রাখতে পারেন। এর ঘন ও ঝুলন্ত পাতা ঘরের সাজসজ্জায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। আর্দ্র পরিবেশ ও পরোক্ষ আলোতে গাছটি ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছটি সতেজ থাকে।
ঘরের বাতাসের মান ভালো রাখতে শুধু গাছ লাগানো যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ বাড়ির ভেতরে টবের গাছ দিয়ে বাতাসের দূষণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমানো কঠিন। তাই ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা, নিয়মিত ধুলাবালি পরিষ্কার করা এবং দূষণের উৎস কমানো জরুরি।






