খাবারের পর হাঁটলে কি সত্যিই চর্বি কমে, যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটলে শরীরের চর্বি দ্রুত কমে—এমন দাবি প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়। অনেকেরই ধারণা, প্রতিটি খাবারের পর হাঁটার অভ্যাস করলে ওজন কমানো সহজ হয়। কিন্তু খাবার খাওয়ার পর হাঁটলেই কি শরীর জমে থাকা চর্বি পোড়াতে শুরু করে? নাকি এর প্রভাব অন্যভাবে কাজ করে?

এ বিষয়ে বাস্তবতা ও প্রচলিত অনলাইন দাবির পার্থক্য তুলে ধরেছেন চিকিৎসকরা।

ইন্টারনেটে যে দাবি করা হয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্য ও ওজন কমানো নিয়ে নানা পরামর্শ ছড়িয়ে থাকে। এর মধ্যে খাবারের পর হাঁটলে ওজন কমে বা চর্বি পোড়ে—এমন দাবিও বেশ জনপ্রিয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, খাবারের পর হাঁটা শুরু করলেই শরীর সঙ্গে সঙ্গে জমে থাকা চর্বি থেকে শক্তি নেওয়া শুরু করে না। বরং হাঁটা শরীর সদ্য খাওয়া খাবার কীভাবে ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাত করে, তাতে প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদে এর মাধ্যমে ওজন ও শরীরের চর্বি নিয়ন্ত্রণে পরোক্ষ সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

খাবারের পর হাঁটলে কী হয়?

ইনসুলিনের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে

কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে। তখন অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়, যা রক্তের শর্করাকে কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাবারের পর হাঁটার সময় পেশি ইনসুলিনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করেই রক্তের গ্লুকোজ সরাসরি শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি কিছুটা কমে এবং ইনসুলিনের মাত্রাও তুলনামূলক কম থাকে। ইনসুলিনের মাত্রা কম থাকলে পরবর্তী সময়ে শরীরের সঞ্চিত চর্বি ব্যবহারের প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।

বিপাকক্রিয়া ও ক্যালরি খরচ বাড়ায়

খাবারের পরপর হালকা হাঁটাহাঁটি হজমের সময় শরীরের শক্তি খরচ সামান্য বাড়াতে পারে। খাবার হজম করার জন্য শরীর যে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে, তাকে ডায়েট-ইনডিউসড থার্মোজেনেসিস বা খাদ্যজনিত তাপ উৎপাদন বলা হয়।

বিশেষজ্ঞের মতে, হালকা হাঁটা নিজে খুব বেশি ক্যালরি পোড়ায় না। তবে খাবার হজমের সময় বসে থাকার পরিবর্তে হাঁটলে মোট শক্তি খরচ কিছুটা বাড়ে।

হজমে সহায়তা ও পেট ফাঁপা কমাতে পারে

খাবারের পর শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে পাকস্থলী ও অন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাবার তুলনামূলক দ্রুত চলাচল করতে পারে। ফলে খাবারের পর শরীর ভারী লাগা, পেট ফাঁপা ও বুকজ্বালার মতো অস্বস্তি কমতে পারে। এতে শরীর কিছুটা বেশি স্বস্তি ও কর্মচঞ্চলতা অনুভব করতে পারে।

খাবারের কতক্ষণ পর হাঁটবেন?

গবেষণার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা খাবার শেষ করার ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে হাঁটা শুরু করার পরামর্শ দেন। এ সময় সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে থাকে। হাঁটার জন্য দীর্ঘ সময়ও প্রয়োজন নেই। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটাই রক্তে শর্করার ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
হাঁটার গতিও স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হওয়া উচিত। ঘণ্টায় প্রায় ২ থেকে ৩ মাইল গতিতে হালকা হাঁটাই যথেষ্ট। ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই তীব্র ব্যায়াম করলে পাকস্থলীতে রক্তপ্রবাহের ওপর প্রভাব পড়ে পেটের খিঁচুনি বা বদহজম হতে পারে।

অর্থাৎ, খাবারের পর হাঁটা মানেই সঙ্গে সঙ্গে শরীরের চর্বি গলে যাওয়া নয়। তবে প্রতিদিনের অভ্যাস হিসেবে খাবারের পর অল্প সময় হাঁটা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, হজম এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

  • Related Posts

    কঠিন পরিস্থিতিতে মন শক্ত রাখার দোয়া

    মানবজীবন সুখ-দুঃখ, পরীক্ষা ও নানা চড়াই-উতরাইয়ের এক অপূর্ব সমাহার। জীবনের পথচলায় প্রায়ই নানা বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা ও অপ্রত্যাশিত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কখনো তীব্র হতাশা মানুষের মনকে গ্রাস করে, আবার…

    ১৯৯০ থেকে ২০২৫: এইচএসসির পাশের হার কেমন ছিল

    শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশ করা হবে এ বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল। এই ফল প্রকাশের পর জানা যাবে এবারের পাশের হার কত। কিন্তু ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সাল অর্থাৎ…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    You Missed

    কঠিন পরিস্থিতিতে মন শক্ত রাখার দোয়া

    কঠিন পরিস্থিতিতে মন শক্ত রাখার দোয়া

    ১৯৯০ থেকে ২০২৫: এইচএসসির পাশের হার কেমন ছিল

    ১৯৯০ থেকে ২০২৫: এইচএসসির পাশের হার কেমন ছিল

    অসুস্থতা কাটিয়ে নাটকে ফিরছেন তানিয়া বৃষ্টি

    অসুস্থতা কাটিয়ে নাটকে ফিরছেন তানিয়া বৃষ্টি

    বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৬ জনের

    বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৬ জনের

    কিউইদের কাছে ভারতের বড় হার

    কিউইদের কাছে ভারতের বড় হার

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হতে যাচ্ছে: ট্রাম্প

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হতে যাচ্ছে: ট্রাম্প