অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক টেস্ট ক্রিকেটে ৪৫০ উইকেট শিকারি বোলারদের অভিজাত তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। গকেবেরহার সেন্ট জর্জেস পার্কে দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালীন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার উইয়ান মুল্ডারকে আউট করার মাধ্যমে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
এই বাঁহাতি ফাস্ট বোলার একটি দুর্দান্ত শর্ট ডেলিভারির মাধ্যমে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন, যা তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আরও একটি বড় অর্জন হয়ে রইল। নিজের ১০৯তম টেস্ট ম্যাচে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন এই অজি পেসার। বলের সংখ্যার বিচারে তিনিই ইতিহাসের দ্রুততম বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৪৫০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়লেন।
এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তার প্রয়োজন হয়েছে ২০,৫৭৭টি ডেলিভারি; যা অস্ট্রেলিয়ারই সাবেক ফাস্ট বোলার গ্লেন ম্যাকগ্রার ২৩,৪৭৪ বলের আগের রেকর্ডটিকে ছাড়িয়ে গেছে। দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের ৫০তম ওভারে এই মাইলফলকে পৌঁছান স্টার্ক। তিনি মুল্ডারকে একটি শর্ট ডেলিভারি করেন; বলের বাউন্স দেখে চমকে যাওয়া মুল্ডার নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে মুখের সামনে হাত তুলে ফেলেন।
বলটি মুল্ডারের গ্লাভসে স্পর্শ করে হেলমেটে আঘাত হানে এবং এরপর প্রথম স্লিপের দিকে চলে যায়, যেখানে ম্যাট রেনশ ক্যাচটি লুফে নেন। অস্ট্রেলিয়া দল আউটের আবেদন জানালে মাঠের আম্পায়ার শুরুতে সাড়া দেননি, তবে পরবর্তীতে রিভিউয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে বলটি গ্লাভসে লেগেছিল।
৩৮ বলে ১৩ রান করা মুল্ডার আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে স্টার্ক তার ক্যারিয়ারের ৪৫০তম টেস্ট উইকেটটি তুলে নেন। এই উইকেটটি স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। এই কৃতিত্ব অর্জনের ফলে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় স্টার্ক এখন চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। তালিকার শীর্ষে আছেন শেন ওয়ার্ন (৭০৮ উইকেট), এরপর যথাক্রমে রয়েছেন নাথান লায়ন (৫৭৩ উইকেট) ও গ্লেন ম্যাকগ্রা (৫৬৩ উইকেট)। ৩৫৫ উইকেট নিয়ে ডেনিস লিলি সেরা পাঁচের তালিকায় রয়েছেন।স্টার্কের এই রেকর্ডটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ ৪৫০ উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘দ্রুততম’ হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে কোন মানদণ্ড বা পরিমাপক ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর।
শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে (ম্যাচের হিসেবে) এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন; তিনি ৮০টি টেস্ট খেলে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। মিচেল স্টার্কের লেগেছে ১০৯টি ম্যাচ, তবে বলের সংখ্যার বিচারে মিচেলের কার্যকারিতা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।






