চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) থেকে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রোববার রাতে এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তারা।
তবে ক্লাশে ফিরলেও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের আন্দোলন চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে আবারও ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সেক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে শিক্ষাজীবনে সৃষ্ট অতিরিক্ত ক্ষতির দায়ভার উপাচার্য এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকে নিতে হবে বলেও জানান তারা।
এদিকে চুয়েটের বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসনে বুধবার অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত পরামর্শক কমিটির মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। গত রোববার ইউজিসির ইনস্পেকশন ও মনিটরিং শাখা থেকে জারি করা চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রাখা নিয়ে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চলমান আন্দোলনের বিষয়ে চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলক্বার নাঈন মিহাদ বলেন, দীর্ঘদিন ক্লাশ-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাই আমরা আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়েই ক্লাশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া প্রশাসনিক ভবন আগের মতোই তালাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উপাচার্য যদি পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন, তবে আন্দোলন কঠোর হবে।
রোববার সকালে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্তগুলো রাতে এক বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, উপাচার্যের প্রতি পূর্ণাঙ্গ অসহযোগ অব্যাহত রেখেই শিক্ষকরা একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন। তবে নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক যেকোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি কঠোরভাবে পালন করা হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগের প্রধান বা ইনস্টিটিউট পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, ছাত্রকল্যাণ দপ্তর ও হল প্রশাসনকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা চেয়ে কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। এছাড়া বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকানো ও নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ রাখা এবং আনসার বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর জন্য নিরাপত্তা শাখাকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক সমিতি।
বিবৃতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইউজিসির ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণসহ অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যকে বাদ দিয়ে উপাচার্যের অনলাইনে সভা আয়োজন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
এর আগে গত ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ সভার সিদ্ধান্তও রোববার রাতে পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি শিক্ষার্থী বাসে হামলার ঘটনার দায়ভার উপাচার্যকে বহন করতে হবে বলে সভায় উপস্থিত সদস্যরা একমত হন। এছাড়া শিক্ষক সমিতির পূর্ববর্তী সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপাচার্যের বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং পরবর্তী ঘটনায় যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানের অনাকাঙ্ক্ষিত উপস্থিতির নিন্দা জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে ড. মো. আরাফাত রহমানকে বিরত রাখার দাবি জানানো হয়।
জানতে চাইলে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আহসান উল্লাহ বলেন, আপাতত আমাদের একাডেমিক কার্যক্রম চালুর বিষয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রশাসনিক বিষয়টি আমরা এখন বলতে পারছি না, সে বিষয়ে আমাদের শিক্ষক সমিতি থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। পরে কর্মবিরতি দিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।






